চীফ রিপোর্টার আজিজুল হক
নিয়ামতপুর থেকে করিমগঞ্জ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটির বেহাল অবস্থা এখন এলাকাবাসীর নিত্যদিনের দুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ চলমান থাকলেও দৃশ্যমান উন্নয়নের অভাবে জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস ধরে রাস্তার কাজ চললেও তা এখনো শেষ হয়নি। ফলে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে অসুস্থ ও গর্ভবতী নারীদের জন্য এই সড়ক হয়ে উঠেছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলাচল করতে গিয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয় ঘটতে পারে।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—এই দুরবস্থার জন্য দায়ী কে? জনগণ, নাকি জনপ্রতিনিধিরা? সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনকালীন সময়ে সামান্য সুবিধা বা প্রলোভনের বিনিময়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা ভবিষ্যতে এমন দুর্ভোগেরই জন্ম দেয়। অযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচিত করার ফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই।
অভিযোগ রয়েছে, বছরের পর বছর উন্নয়নের নামে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন খুবই কম। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নানা প্রতিশ্রুতির পরও এই সড়কের টেকসই উন্নয়ন না হওয়ায় জনগণের আস্থায় চিড় ধরেছে।
এদিকে, সামাজিক ও নাগরিক পরিসরে এ বিষয়ে তেমন কোনো প্রতিবাদ বা জোরালো আওয়াজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—এই নীরবতার কারণ কী? ভয়, স্বার্থ, নাকি উদাসীনতা?
সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, জনগণের সম্মিলিত সচেতনতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তারা দ্রুত সড়কটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
নিয়ামতপুর–করিমগঞ্জ মহাসড়কের বর্তমান চিত্র শুধু একটি সড়কের দুরবস্থাই নয়, বরং এটি আমাদের সামগ্রিক দায়বদ্ধতা ও সচেতনতার প্রতিফলন। এখন সময় এসেছে নীরবতা ভেঙে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার—যাতে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পায় সাধারণ মানুষ।




