চীফ রিপোর্টার আজিজুল হক
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও প্রতিকূল সময় পার করে যারা একটি দলের পতাকা ধরে রেখেছেন, তাদের ত্যাগ, কষ্ট ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন কতটা হচ্ছে—এ প্রশ্ন আজ তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর মনে দানা বেঁধেছে। জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত অসংখ্য নেতাকর্মী গত প্রায় ১৭ বছর ধরে দলের জন্য নিজেদের সময়, শ্রম, অর্থ এবং ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ উৎসর্গ করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই দীর্ঘ সময়ে তাদের অনেকেই আর্থিক, সামাজিক ও পেশাগতভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন।
রাজনৈতিক কর্মীদের একটি বড় অংশ অভিযোগ করছেন, দলের জন্য কাজ করতে গিয়ে তারা চাকরি, ব্যবসা কিংবা নিজেদের ক্যারিয়ারের স্থিতিশীলতা হারিয়েছেন। এর ফলে শুধু তারাই নয়, তাদের পরিবারও নানা ধরনের মানসিক চাপ, হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে প্রায়ই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়—“এত বছর রাজনীতি করে তোমরা কী পেলে?”
এই প্রশ্নের জবাব অনেক কর্মীর কাছেই আজ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ বাস্তব জীবনে তারা অনেকেই আর্থিক সংকট, সামাজিক অবমূল্যায়ন এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি।
খোলা চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, দলের ভেতরে এমন অনেক ব্যক্তি আছেন যারা কঠিন সময়ে সক্রিয়ভাবে রাজনীতি না করেও বর্তমানে নিজেদের ত্যাগী কর্মী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। কেউ কেউ ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা প্রভাবের কারণে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। অথচ যারা দীর্ঘ সময় রাজপথে সংগ্রাম করেছেন, মামলার বোঝা বহন করেছেন এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন—তাদের অনেকেই এখনও অবহেলিত।
এতে আরও বলা হয়, যারা অতীতে রাজনীতি না করেও নিজেদের পেশা ও আর্থিক অবস্থান অটুট রেখেছেন, তারা আজও পরিবার নিয়ে স্বচ্ছলভাবে জীবনযাপন করছেন। কিন্তু প্রকৃত ত্যাগী কর্মীদের অনেকেই আজ নিঃস্বতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। তাদের জীবনের সংগ্রাম যেন কারও নজরে পড়ছে না।
এ অবস্থায় দলীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি এক আন্তরিক আহ্বান জানানো হয়েছে। যারা দীর্ঘ সময় ধরে দলের পাশে থেকেছেন, দুঃসময় পার করেছেন এবং ব্যক্তিগত ক্ষতি স্বীকার করেছেন—তাদের পাশে দাঁড়ানো এখন নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব।
প্রস্তাব করা হয়েছে—যেখানে সম্ভব ত্যাগী কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, ব্যবসা-বাণিজ্যে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া এবং সরকার ঘোষিত বা প্রাপ্ত বৈধ সুযোগ-সুবিধা ন্যায্যভাবে বণ্টনের ব্যবস্থা করা। এতে করে তারা অন্তত পরিবারকে বলতে পারবেন—দল তাদের অবদানকে সম্মান ও মূল্যায়ন করেছে।
রাজনীতির ইতিহাসে তৃণমূল কর্মীরাই একটি দলের প্রকৃত শক্তি। তাদের ত্যাগ, পরিশ্রম ও বিশ্বাসের উপরই দাঁড়িয়ে থাকে সংগঠনের ভিত্তি। তাই এই কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না হলে তা সংগঠনের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সবশেষে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানানো হয়েছে—তিনি যেন সকলকে ন্যায়, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করার তৌফিক দান করেন।
— আমিনুল ইসলাম এবি
আহ্বায়ক
করিমগঞ্জ পৌর যুবদল




