দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে ন্যায়বিচার পেল কুষ্টিয়ার মিরপুরের সাহাবুল ইসলামের পরিবার। বাজারে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া এবং পরবর্তীতে ধইঞ্চা ক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত এই হত্যা মামলায় চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. এনায়েত কবির সরকার জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের মূল দণ্ডসমূহ চার আসামির প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড,প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, দিতে ব্যর্থ হলে আরও এক বছরের অতিরিক্ত সশ্রম কারাদণ্ড।
দণ্ডিত আসামিরা হলেন ,আসাদুল প্রামাণিক ওরফে কালু (মিটন পশ্চিমপাড়া) হাবিল হোসেন (মিটন পশ্চিমপাড়া) মিলন (মিটন পশ্চিমপাড়া)
আবু তাহের (মাজিরহাট খাঁপাড়া) বর্তমানে পলাতক।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর। সেদিন সন্ধ্যায় বাজারের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন সাহাবুল ইসলাম। সাথে ছিল তার সন্তান সাব্বির। বাজার শেষ করে ছেলেকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেও সাহাবুল আর ঘরে ফেরেননি। সারারাত নিখোঁজ থাকার পর পরদিন সকালে বুরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনের একটি ধইঞ্চা ক্ষেতে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
নিহতের স্ত্রী সুমি খাতুনের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা এসএস জাবীদ হাসান মাত্র দুই মাসের মাথায় ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। মোট ১৯ জন সাক্ষীর দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি আদালতে উপস্থিত থাকলেও আবু তাহের পলাতক রয়েছেন। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।




