চিফ, রিপোর্টার আজিজুল হক
সাম্প্রতিক সময়ে গঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পেরিয়েছে দুই সপ্তাহের বেশি। সরকারের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হলেও এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়—রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে কে আসছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্র ও সংসদের সাংবিধানিক শীর্ষ দুটি পদে অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বকে বসানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবীর নাম নিয়ে আলোচনা চলছে।
রাষ্ট্রপতি পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে
রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন এবং মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর নামও আলোচনায় এসেছে। তবে দলীয় অন্দরে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা যায়।
স্পিকার পদে আলোচনায় তিনজন
জাতীয় সংসদের স্পিকার পদ নিয়েও ব্যাপক আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন—
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক দায়িত্ব পালনকারী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন
ড. এম ওসমান ফারুক দীর্ঘদিন শিক্ষা ও সংসদীয় কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের কারণে তাকে সম্ভাব্য স্পিকার হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহমদ ছয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তার দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণ তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে।
প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া জয়নুল আবেদীনও আলোচনায় আছেন। আইন পেশায় দীর্ঘ সম্পৃক্ততা এবং সংবিধান ও সংসদীয় বিধিবিধান সম্পর্কে তার দক্ষতা তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে।
সামনে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন
আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক মহলে এখন নজর—চূড়ান্তভাবে কার হাতে উঠছে সংসদ পরিচালনার দায়িত্ব।
রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার পদে কারা আসছেন, সে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গন। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আলোচনা-জল্পনা অব্যাহত থাকছে।
