নিজস্ব :প্রতিবেদক আজ ৭ ডিসেম্বর — শেরপুর জেলা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী থেকে মুক্তি লাভের স্মৃতিতে পালিত হয়। ১৯৭১ সালের এই দিনেই শেরপুর শহর ও এর আশেপাশের অঞ্চল (সদর ও নালিতাবাড়ী সহ) হানাদার মুক্ত ঘোষণা করা হয়। 📖 কী ঘটেছিল — ইতিহাস থেকে স্মৃতি স্বাধীনতার জন্য গড়িত যুদ্ধের দশ-মাসে, শেরপুরেও মুক্তিযোদ্ধারা এবং সাধারণ মানুষ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করে। ১৯৭১ সালের ২৬ এপ্রিল পাক হানাদাররা প্রথম শেরপুর শহরে প্রবেশ করে। শনিবিগ্রহ মন্দিরের পুরোহিতকে গুলি করে হত্যা, দোকানপাট লুoot, অগ্নিসংযোগ, দখল, ধর্ষণ ও হত্যাসহ ভয়াবহ অত্যাচার চালায়। স্বাধীনতাকামী ছাত্র, যুবক ও সাধারণ মানুষ অস্ত্র গ্রহণ করে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ঐতিহাসিক যুদ্ধ শুরু করে। ৪ ডিসেম্বর কামালপুর ঘাঁটিতে পাক হানাদারের আত্মসমর্পণের পর, সীমান্তবর্তী অন্যান্য ঘাঁটির পাক বাহিনী পিছু হটে শেরপুর → জামালপুর অভিমুখে চলে যায়। ৬ ডিসেম্বর রাতে শেরপুর দখলমুক্ত হয় বলেই ধরা হয়। ৭ ডিসেম্বর ১৯৭১: মিত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জগজিৎ সিং অরোরা হেলিকপ্টারে শেরপুর পৌর পার্কে অবতরণ করেন। একই দিনে প্রথমবার শেরপুরে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়; আনুষ্ঠানিকভাবে শেরপুরকে “হানাদার মুক্ত” ঘোষণা করা হয় 🇧🇩 প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ-এর সঙ্গে শেরপুরের ভূমিকা _১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১–এ যুদ্ধে শেষে পাক সেনদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনা হয়। শেরপুরের মতো জেলার মুক্তি ছিল জাতির সার্বিক মুক্তির অংশ — প্রতিটি অঞ্চলেই মুক্তিযোদ্ধারা নিজের রক্ত দিয়ে স্বাধীনতার প্রখর অভিলাষ পূর্ণ করেছিল। 📅 প্রতিবছরের স্মরণ ও বর্তমান অনুষ্ঠান প্রতি ৭ ডিসেম্বর শেরপুরে “মুক্ত দিবস” হিসেবে পালন করা হয়। সাধারণত শুরু হয় বিকেল ১০টায় শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও র‍্যালি দিয়ে। পরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক–সর্বস্তরের কর্মসূচি থাকে। ওই দিন স্মৃতিচারণ করে দেশপ্রেম, স্বাধীনতার মূল্য এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়। ✨ কেন গুরুত্বপূর্ণ — আমাদের দায়িত্ব শেরপুর মুক্ত দিবস”–এর মাধ্যমে আমরা স্মরণ করি সেই বীর শহিদ–বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যারা স্বাধীনতার জন্য সর্বস্ব দিয়েছিল। এটি আমাদের জন্য একটি শিক্ষার সুযোগ: জানি আমাদের ইতিহাস, জানি আমরা কীভাবে আজাজীবন স্বাধীনতায় বাঁচিয়েছে আজকের প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া যায় — স্বাধীনতার পেছনে কত লোকে জীবন দিয়েছেন, — যাতে জাতি কখনো সে ত্যাগ ভুলে না যায়। আশা করি এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু তথ্যবহুল প্রতিবেদনটি “শেরপুর পাক হানাদার মুক্ত দিবস”–এর গুরুত্ব, ইতিহাস এবং তৎকালীন ঘটনা সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে। লেখক আজিজুল হক সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী