আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জনগণের প্রত্যাশা নিয়ে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের আলোচনা সভা

চীফ রিপোর্টার আজিজুল হক
সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জনগণের প্রত্যাশা” শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দেশি-বিদেশি নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নেপালের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার দীনেশ কুমার থাপালিয়া। তিনি বলেন,
“গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা না গেলে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মালদ্বীপের নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আকরাম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,
“নির্বাচন শুধু ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া নয়, এটি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি সাংবিধানিক মাধ্যম। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর উচিত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা।”
সভায় সংস্থার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবু নাসের মো: ইলিয়াস বলেন,
“নির্বাচনকালীন সময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষ ভূমিকা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা: বাসিদুল ইসলাম তার বক্তব্যে নির্বাচনকালীন মানবাধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন,
“নির্বাচনের পরিবেশ যেন সহিংসতামুক্ত ও নিরাপদ থাকে, সেদিকে সর্বোচ্চ নজর দিতে হবে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব।”
এছাড়া ইংল্যান্ডের প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন,
“প্রবাসী বাংলাদেশিরাও দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি গভীরভাবে আগ্রহী। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন,
“জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য।”
সভাটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় পরিচালক মেজর (অব.) জাহেদ হোসেন। তিনি আলোচনা সভার সার্বিক দিক তুলে ধরে বলেন,
“এই ধরনের আলোচনা সভা নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
আলোচনা সভায় বক্তারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।


