নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট | ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬সিলেট শহরের ধোপাদিঘীর পাড়ে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল ঐতিহাসিক স্থাপনা—সিলেট পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগার। ইটের দেয়াল আর পুরনো কাঠামোর পরতে পরতে এখানে জমে আছে শতাব্দীর ইতিহাস, বেদনা আর সময়ের নানা অজানা অধ্যায়। জনশ্রুতি রয়েছে, ব্রিটিশ শাসনামলে এটি ভারতের আসাম প্রদেশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রীয় কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত হতো।গোড়াপত্তন ও বিবর্তন:১৭৮৯ সালে আসামের তৎকালীন কালেক্টর জন উইলিশের হাত ধরে 'সিলেট জেলা কারাগার' হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় ১৯৯৭ সালের ৩ মার্চ এটিকে কেন্দ্রীয় কারাগারে উন্নীত করা হয়।ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও ফাঁসির মঞ্চ:এই কারাগারের ইতিহাসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও করুণ অধ্যায়টি রচিত হয় ১৯৩৭ সালে। সে বছর এখানে করিমুন্নেসা নামে প্রথম এক নারী কারাবন্দির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ঐতিহাসিক তথ্যমতে, দেশের একমাত্র নারী কারাবন্দিদের জন্য নির্ধারিত ফাঁসির মঞ্চটি এই কারাগারেই অবস্থিত। দীর্ঘ ইতিহাসে এখানে মোট সাতজন অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।বর্তমান অবস্থা:শহরের কেন্দ্রস্থলে জনবসতি বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে শহরতলীতে নতুন ও আধুনিক কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন কারাগারটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার পর পুরনো এই স্থাপনাটি এখন ‘সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার–২’ নামে দাপ্তরিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।শহরের কোলাহলের মাঝে ধোপাদিঘীর পাড়ের এই নীরব দেয়ালগুলো আজও পর্যটক ও ইতিহাসপ্রেমীদের মনে করিয়ে দেয় কয়েকশ বছরের পুরনো সেই ব্রিটিশ আমল ও বদলে যাওয়া সময়ের কথা।