কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, ট্রেনের টিকিট যেন 'সোনার হরিণ', নিরাপত্তা জোরদার

সিনিয়র রিপোর্টার ফজলে করিম মোঃ নাজমুজ্জামান
ইংরেজি নতুন বছর ২০২৬-কে বরণ করে নিতে এবং পুরোনো বছরকে বিদায় জানাতে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। গত দুই দিনেই প্রায় কয়েক লাখ পর্যটক কক্সবাজারে প্রবেশ করেছেন। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির দেওয়া তথ্যমতে, থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষ্যে শহরের প্রায় ৯৫ শতাংশ হোটেল কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। তারকা মানের হোটেলগুলো (যেমন- সায়মন, ওশেন প্যারাডাইস, সিগাল) পুরোপুরি বুকড।
টিকিট সংকট ও ভোগান্তি:
ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার পর থেকে পর্যটকদের আগ্রহ বহুগুণ বেড়েছে। তবে এই সময়ে ট্রেনের টিকিট পাওয়া যেন লটারি জেতার সমান। 'কক্সবাজার এক্সপ্রেস' এবং 'পর্যটক এক্সপ্রেস'-এর আগামী ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত এসি এবং নন-এসি কোনো সিটই ফাঁকা নেই। অনলাইনে টিকিট ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। বাসের টিকিটের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা, দ্বিগুণ দামে টিকিট বিক্রির অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা:
থার্টি ফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে ট্যুরিস্ট পুলিশ তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। সমুদ্রসৈকতে আতশবাজি ফোটানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লাবনী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধান জানিয়েছেন, "পর্যটকরা যেন কোনো প্রকার হয়রানির শিকার না হন এবং নিরাপদে সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য আমরা সজাগ আছি। গভীর রাতে সৈকতে অবস্থান সীমিত করা হতে পারে।"
সেন্টমার্টিন প্রসঙ্গ:
পরিবেশগত বিধিনিষেধের কারণে এবার সেন্টমার্টিনে পর্যটক গমনের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হলেও, ছুটির কারণে সেখানেও টিকিটের হাহাকার চলছে। টেকনাফ ও ইনানি থেকে জাহাজগুলোর টিকিট অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে।
সেন্টমার্টিন ভ্রমণের নতুন নিয়ম ও টিকিট সংকট:
সবচেয়ে বড় খবর হলো সেন্টমার্টিন ভ্রমণ নিয়ে। পরিবেশ রক্ষার খাতিরে সরকার এবার দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সীমিত করেছে। প্রতিদিন মাত্র ২,০০০ পর্যটককে দ্বীপে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দ্বীপে প্রবেশের জন্য 'ট্রাভেল পাস' বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে সংগ্রহ করতে হয়।
ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দ্বীপে রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকলেও জাহাজের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। টেকনাফ এবং ইনানী থেকে যে কয়েকটি জাহাজ চলছে, তার সব টিকেট আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সোল্ড আউট। কালোবাজারে চড়া দামে টিকিট বিক্রির অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।


