চীফ রিপোর্টার আজিজুল হক  মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির আয়োজনে বর্ণাঢ্য বিজয় র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম–এর নেতৃত্বে আয়োজিত এই র‍্যালিতে দলীয় নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো শহর। বিজয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সকালে দলীয় কার্যালয় থেকে র‍্যালিটি বের হয়। লাল-সবুজের পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন ও বিজয় দিবসের নানা স্লোগানে সজ্জিত র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালি চলাকালে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বানে রাজপথে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। র‍্যালি শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বলেন  মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতি রক্তের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, সেই স্বাধীনতার মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা। বক্তব্যে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ ১-( সদর হোসেনপুর আসনের ) ধানের শীষের  মনোনীত প্রার্থী (মাজহারুল ইসলাম বলেন,) “মহান বিজয় দিবস আমাদের শিখিয়ে দেয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। শহীদদের রক্তের সঙ্গে কোনো আপস হতে পারে না। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি সবসময় রাজপথে ছিল, আছে এবং থাকবে।” আলোচনা সভায় আরও বলা হয়, বিজয়ের এই দিনে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে এবং স্বাধীনতার সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

নাজমুল আলম তার আবেগঘন বক্তব্যে বলেন

আজকের এই মহান বিজয় দিবসে দাঁড়িয়ে আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি সেইসব বীর শহীদদের, যাদের তাজা রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ভূখণ্ড, একটি লাল-সবুজের পতাকা। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর শুধু একটি দিন নয়, এটি বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদা, সাহস ও আত্মত্যাগের চিরন্তন প্রতীক। তিনি বলেন, শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত রাষ্ট্র। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজও সেই স্বপ্ন পূর্ণতা পায়নি। আমাদের স্বাধীনতা তখনই অর্থবহ হবে, যখন সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে কথা বলতে পারবে, নিজের ভোট নিজে দিতে পারবে এবং ন্যায়ের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে। নাজমুল আলম আরও বলেন, বিজয়ের এই দিনে আমরা শপথ নিই—শহীদদের রক্তের সঙ্গে কখনো বেইমানি করবো না। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘বিজয়ের চেতনা আমাদের শক্তি, শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের প্রেরণা। সেই প্রেরণাকে বুকে ধারণ করেই আমরা এগিয়ে যাব—বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে মুক্ত, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে।’” অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। আবেগ, শ্রদ্ধা ও প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির বিজয় দিবসের এই কর্মসূচি।