চীফ রিপোর্টার আজিজুল হক 

জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কিশোরগঞ্জ-১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনের প্রার্থী হিসেবে মো. মাজহারুল ইসলাম-কে মনোনয়ন দেওয়ার পর, মনোনয়ন বঞ্চিত ৪ নেতা আজ সন্ধ্যায় শহরের বিভিন্ন সড়কে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। বঞ্চিত নেতাদের নাম বিক্ষোভ ও মিছিল পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়েছে নিচের চার জন নেতা:  রেজাউল করিম খান চুন্নু — সাবেক জেলা বিএনপি সহসভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা। খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল — জেলা বিএনপি’র সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি। রুহুল হোসাইন — জেলা বিএনপি’র সাবেক সহসভাপতি। শরীফুল ইসলাম — জেলা বিএনপি’র সাবেক সহসভাপতি এবং সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। ঘটনার বিবরণ মিছিল শুরু হয় পৃথক-পৃথক সমাবেশ থেকে। পরে একত্র হয়ে এই চার নেতা রিকশায় চড়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, প্রার্থী নির্বাচনে ভুল মনোজনন হয়েছে — নতুন প্রার্থী হিসেবে এমন কাউকে হোক যিনি “সৎ, জনপ্রিয় ও স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য”। তারা আশ্বস্ত করে বলছেন, যদি তাদের দাবি না মানা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি হতে পার নেতাদের বক্তব্য এবং তাদের দাবি রেজাউল করিম খান চুন্নু এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “মানুষ আমাকে চায়… জনগণের ভোটই মাপকাঠি।” বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছেন, বর্তায়ী প্রার্থীকে যদি প্রার্থী করা হয়, তাহলে দলের ঐক্য এবং ভোটাভুটার চ্যালেঞ্জ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট – এই আসনটিতে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা কম নয়; ২০০৭ এবং ২০১৮-র নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়ে পরাজিত হলেও রেজাউল করিম খান চুন্নু প্রায় ৭৬ হাজার ভোট পেয়েছিলেন — যা ওই সময়কার সবচেয়ে বেশি। – মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মাজহারুল ইসলামের নাম ঘোষণার পরই মনোনয়নবঞ্চিত কয়েকজন তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশ্লেষণ মশাল মিছিল এবং বিক্ষোভ দেখাচ্ছে — কিশোরগঞ্জ-১ আসনে একাংশ বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অনুভব করছেন যে, মনোনয়ন প্রক্রিয়া ছিল ত্রুটিপূর্ণ এবং নির্বাচনী বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রস্তুতি যথাযথ হয়নি। বর্তমান কেন্দ্রীয় মনোনয়নকে দ্রুত পুনর্বিবেচনা না করলে — দলীয় ভেতরের মতামত ও ভোটারদের অনুভূতিকে গুরুত্ব না দিলে — আগামী নির্বাচনে দলে বিভাজন ও ভোট ক্ষতি দেখা দিতে পারে।