কিশোরগঞ্জ-৩ করিমগঞ্জ–তাড়াইল আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী

বিশেষ প্রতিবেদন
কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে ২০২৬ সালের ক্রোয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ যে নামটি সামনে নিয়ে এসেছে, তিনি হলেন — কর্নেল (অব.) ডা. জিয়াদ খান। পেশাগত জীবন চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত, সামরিক বাহিনীতে দীর্ঘ সেবাযাত্রা এবং সাম্প্রতিক সময়ে মানবিক চিকিৎসা সহায়তা ও সামাজিক কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ — তাকে এলাকায় এক আলোচিত নাম হিসেবে তুলে ধরেছে। জনগণ বলছে তিনি শুধু ভোট চাইতে আসেননি, সেবা দিতে এসেছেন।”
জন্ম, শিক্ষা ও কর্মজীবনের শুরু- ডা. জিয়াদ খান জন্মগ্রহণ করেন ১১ মার্চ ১৯৫৭ সালে, কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার এক ধর্মীয়-শিক্ষিত পরিবারে। শৈশব থেকেই শিক্ষা, বিজ্ঞানচর্চা এবং সমাজ ও মানুষের উপকারে কাজ করার মানসিকতা তার ব্যক্তিত্বে প্রভাব ফেলে।তিনি চিকিৎসাশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। দীর্ঘ সময় তিনি ঢাকা সিএমএইচ-এর কার্ডিওলজি বিভাগে কর্মরত ছিলেন এবং হৃদরোগ চিকিৎসায় দক্ষতা, নৈতিকতা ও পেশাদারি সততার কারণে প্রশংসা অর্জন করেন।
চিকিৎসা ও মানবিক সেবা: জনপ্রিয়তার বড় ভিত্তি-বর্তমানে তিনি ঢাকায় ইবনে সিনা হাসপাতালে কার্ডিওলজিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এর পাশাপাশি বৃদ্ধদরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ঔষধ সহায়তা কার্যক্রম,গ্রামীণ মেডিকেল ক্যাম্প, স্বাস্থ্যসচেতনতা কর্মসূচি —এলাকার মানুষের মাঝে তার পরিচয়কে দেয় মানবিক উচ্চতা।গত কয়েক মাসেই তাড়াইল ও করিমগঞ্জে অনুষ্ঠিত মোট ৭টিরও বেশি মেডিকেল ক্যাম্পে শত শত রোগী বিনামূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষায় রাজনীতি করার আগেই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এটাই তাকে আলাদা করেছে।”
রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় অবস্থান-কর্নেল (অব.) ডা. জিয়াদ খান দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ-এর মজলিসে শূরা সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন। দলের মতে, তিনি— নৈতিক রাজনীতি, শিক্ষা-স্বাস্থ্য উন্নয়ন সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক জনমুখী রাজনীতির পক্ষে।জামায়াত তাকে মনোনয়ন দেয় “যোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং জনসমর্থনের ভিত্তিতে”।
নির্বাচনী সমীকরণ ও সম্ভাবনা বিশ্লেষণ-কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে বিগত নির্বাচনে দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘনিষ্ঠ ছিল। এবার নতুন ভারসাম্য তৈরি করেছে— ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা সামাজিক উপস্থিতি সুশিক্ষিত ও পেশাজীবী প্রার্থী চাহিদা। জামায়াত ভোটব্যাংকের স্থায়ী ভিত্তি
বিশ্লেষকদের মতে— যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রতিযোগিতা-পূর্ণ হয়, তবে ডা. জিয়াদ খানের ব্যক্তিগত ইমেজ ভোটের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
জনমত ও জনগণের প্রত্যাশা-নির্বাচনী এলাকায় তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের দাবি— “আমাদের এমন মানুষ চাই, যিনি শুধু কথা নয় — কাজ দিয়ে দেখাবেন।গ্রামীণ নারীরা তার গাইনী ও শিশুচিকিৎসাসহ স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগকে দৃষ্টান্তমূলক বলছেন। শান্তভাষী, নীতিবান, ভদ্র এবং পরিশ্রমী।
চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ ক্ষেত্র সম্ভাবনা চ্যালেঞ্জ ব্যক্তিগত ইমেজ —দলীয় কাঠামো ও ভোটব্যাংক রাজনৈতিক বিভাজন । নির্বাচনী গ্রাউন্ড ও প্রচারণা প্রতিদ্বন্দ্বীর শক্ত অবস্থান জনগণের আস্থা
ভবিষ্যতের ভিশন- তার ঘোষিত অঙ্গীকার—স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণ তাড়াইল–করিমগঞ্জে মেডিকেল সেবা ও শিক্ষা দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন ও জনকল্যাণভিত্তিক রাজনীতি
তিনি বলেন—জনগণ আমাকে সুযোগ দিলে এই অঞ্চলকে দেশের স্বাস্থ্য ও মানবিক সেবা মডেলে পরিণত করব। কর্নেল (অব.) ডা. জিয়াদ খান এখন শুধুই একজন রাজনৈতিক প্রার্থী নন —
তিনি একাধারে— চিকিৎসক, সমাজসেবক। দলীয় নেতৃত্বধারী, এলাকার মানুষের বিশ্বাসযোগ্য মুখ। তাই কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে ২০২৬এর নির্বাচনে তিনি নিঃসন্দেহে একটি দৃশ্যমান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক প্রার্থী।
লেখক সাবেক সেনা কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন লিটন


