কুষ্টিয়ায় বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী, এখন পরীক্ষা ঐক্যের

কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুষ্টিয়ার চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপি তাদের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, জল্পনা-কল্পনা ও আন্দোলনের পর অবশেষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্র প্রার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রাথমিক তালিকার বাইরে গিয়ে কোনো আসনেই প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়নি।
বিএনপি স্পষ্ট করে দিয়েছে—কুষ্টিয়ার চারটি আসনই ধরে রাখাই তাদের লক্ষ্য। তবে মাঠের রাজনীতি বলছে, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন দলীয় ঐক্য।
কারা পেলেন টিকিট চূড়ান্ত মনোনয়নে—
****কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর): সাবেক এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা
****কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা): ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী
****কুষ্টিয়া-৩ (সদর): প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার
****কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা): সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী
এই চারজনই প্রাথমিকভাবে ঘোষিত তালিকায় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তারাই ‘শেষ হাসি’ হাসলেন।
প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই কুষ্টিয়ার চারটি আসনেই দলের ভেতরে অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন, সড়ক অবরোধ, মশাল মিছিল—সবই দেখা গেছে। অনেক নেতা-কর্মী শেষ মুহূর্তে নাটকীয় পরিবর্তনের আশা করলেও চূড়ান্ত ঘোষণায় সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়।
এর ফলে মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক নেতা মনোনয়নপত্র উত্তোলন করলেও তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন কি না—সে বিষয়ে এখনো কৌশলগত নীরবতা বজায় রেখেছেন। রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি বুঝে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিএনপির ভেতরের হিসাব বলছে, স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলে সংশ্লিষ্ট আসনে ভোটের অঙ্ক পাল্টে যেতে পারে। এমনকি বিদ্রোহী না থাকলেও ক্ষুব্ধ ও নীরব ভোটাররা মাঠে না নামলে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে জামায়াত।
বিশেষ করে কুষ্টিয়া-২, ৩ ও ৪ আসনে দলীয় অসন্তোষ এখনো পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি বলে জানা গেছে।
মনোনয়ন পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা ও তাদের সমর্থকরা।
কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী সাবেক এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন,
“প্রথমেই মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দৌলতপুরের বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এতে আনন্দিত। আমি বিশ্বাস করি, আসন্ন নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হতে পারব।এসময় তিনি আরও বলেন,“দলীয় স্বার্থই সবার আগে। মান-অভিমান ভুলে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে সকল নেতাকর্মীকে ভোটের মাঠে থাকতে হবে। বিএনপির জয় নিশ্চিত করতে সবাইকে এক কাতারে এসে কাজ করতে হবে।”
তিনি জানান, এলাকার মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে ধানের শীষের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না ইনশাআল্লাহ ।
কুষ্টিয়া-৩ আসনের প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার বলেন,“এখন মূল কাজ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামা। দলের প্রতিটি কর্মী ধানের শীষকে বিজয়ী করতে কাজ করবে—এই বিশ্বাস আমার আছে ।”
দলীয় সূত্র জানায়, চূড়ান্ত মনোনয়নের পর কেন্দ্র থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বহিষ্কারসহ কঠোর পদক্ষেপের কথাও বলা হয়েছে।
তবুও বাস্তবতা হলো—কিছু সাবেক এমপি ও প্রভাবশালী নেতার অনুসারীরা এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। কুষ্টিয়া-২ আসনে সাবেক এমপি শহীদুল ইসলাম, কুষ্টিয়া-৩ আসনে অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনে নুরুল ইসলাম আনসার প্রামানিকের সমর্থকরা হতাশা প্রকাশ করেন ।
চার টি আসনের মধ্যে তুলনামূলক স্বস্তিতে রয়েছে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর)। স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীদের মতে, রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার তৃণমূল গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি হওয়ায় সেখানে বড় ধরনের অন্তর্দ্বন্দ্ব নেই।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, “তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। এখন আর গ্রুপিং থাকবে না। সবাই প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করবে। জেলা ও উপজেলা বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকবে।”
মনোনয়ন চূড়ান্ত, প্রার্থীরা প্রস্তুত—কিন্তু নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে একটাই বিষয়:শেষ পর্যন্ত কি কুষ্টিয়ার বিএনপির সব নেতাকর্মী মান-অভিমান ভুলে ধানের শীষের পক্ষে এক কাতারে দাঁড়াবেন?


