নিজস্ব প্রতিবেদক মোঃ আনোয়ার হোসেনে ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমানকে ফেসবুকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন যুবলীগ নেতা শেখ ফরিদ। ভুক্তভোগী সাংবাদিক নোমান ঠাকুরগাঁও রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য । দৈনিক জনকন্ঠের রানীশংকৈল উপজেলা প্রতিনিধি ও হুমকি দানকারী শেখ ফরিদ একই উপজেলার এমএবি ইটভাটার মালিক আইনুল হকের ছেলে। জানা গেছে শেখ ফরিদ রাতোর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এ ঘটনায় রানীশংকৈল থানায় লিখিত অভিযোগ (জিডি) দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নোমান। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৬ ডিসেম্বর বিকাল ৫ টার দিকে সাংবাদিক নোমান উপজেলার ৭ নং রাতোর ইউনিয়নের শখের টাউন এমএবি ইটভাটায় তথ্য সংগ্রহ করতে যান। এ সময় ইটভাটার পাশে গাছপালা কেটে স্তুপ করা অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায় । তিনি ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ করে নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেন। এ ঘটনার পর ওইদিন রাত ১০ টা ৩০ মিনিটের দিকে ইট ভাটার মালিকের ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা শেখ ফরিদ তার ফেসবুক আইডি থেকে নোমানকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ভাটার খড়ি দিয়ে পুরিয়ে হত্যার হুমকি দেন। নোমান জিডিতে উল্লেখ করেন, বিবাদীর আচরণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং যেকোনো সময় তার ক্ষতি হতে পারে। এজন্য বিষয়টি ভবিষ্যতের নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। নেক্কারজনক ঘটনাটির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক মহল সেই সাথে ঠাকুরগাঁও রিপোর্টার্স ইউনিটির সকল নেতৃবৃন্দ ও সদস্যগণ। এ সময় সাংবাদিক নোমানের জিডি গ্রহণ করেন রাণীশংকৈল থানার ডিউটি অফিসার এসআই মো. আশরাফুল ইসলাম। বিষয়টি পর্যালোচনা করে থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সাংবাদিক সমাজের  প্রতিক্রিয়া বিপ্লব পরবর্তী সময়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের লক্ষ্যেই পতিত স্বৈরাচার সরকারের দোসররা সাংবাদিকদের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় দেশের গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে— "একজন সাংবাদিককে হুমকি দেয়া শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে আক্রমণ করার সামিল।" তারা অবিলম্বে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। সাংবাদিক সমাজ সতর্ক করে আরও জানিয়েছেন— গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদ প্রকাশের অধিকার রক্ষায় যে কোনো মূল্য দিতে তারা প্রস্তুত।