তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দৌলতপুর উপজেলার বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ে অংশ নিলেন রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে দৌলতপুর থানার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। সভায় বিএনপি, জামায়াত, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন, ইসলামিক ফ্রন্ট ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা সরাসরি তাদের উদ্বেগ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। উপস্থিত প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, জামায়াতের উপাধ্যক্ষ মাওলানা বেলাল উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের সাহাবুল মাহমুদ, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি আমিনুল ইসলাম, ইসলামিক ফ্রন্টের বদরুজ্জামান এবং জাতীয় পার্টির শাহরিয়ার জামিল জুয়েল। বক্তারা বলেন, সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় দৌলতপুরে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অস্ত্র ও মাদক প্রবেশ একটি বড় সমস্যা। কিছু অস্ত্র উদ্ধার হলেও এখনো অপরাধীদের হাতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র রয়ে গেছে, যা নির্বাচনকালীন সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও হত্যার মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে, যা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কার্যকর দৃশ্যমান ভূমিকা আরও জোরদার করার দাবি জানান তারা। সভায় বক্তারা বলেন, ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন—সে পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, “অবৈধ অস্ত্র বহন, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। এবারের নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।” তিনি আরও জানান, লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে এবং খুব শিগগিরই উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসবে। এ কাজে তিনি সকল শ্রেণির মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কল্লোল বিশ্বাস, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। উল্লেখ্য, দৌলতপুর উপজেলায় বিএনপি, জামায়াত, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন, ইসলামিক ফ্রন্ট, জাতীয় পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল থেকে মনোনীত সাতজন প্রার্থী এবং বিএনপি থেকে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪,০৪,৫০৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,০৩,৪৯২ জন, নারী ভোটার ২,০১,০১১ জন এবং একজন হিজড়া ভোটার রয়েছেন। দৌলতপুরের ২৪৯টি ভোটার এলাকায় মোট ১৩৫টি ভোট কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও জনগণের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে দৌলতপুরে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।