নির্বাচন কমিশনের আচরণগত বৈষম্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নিয়ে প্রশ্ন
নতুন দৃষ্টিডেস্ক রিপোর্ট
আলোচিত ইসলামী বক্তা ও ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হাবিবুর রহমান মিসবাহ্ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোষ্টে লিখেন
দেশ যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে, তখন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও আচরণবিধি প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রমে কমিশনের ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর সংবর্ধনা, শোডাউন, মোটরসাইকেল বহর, সভা-সমাবেশ ও প্রদর্শনীমূলক আয়োজন স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ।
এই বিধিনিষেধের মূল উদ্দেশ্য—সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, প্রভাব বিস্তার রোধ করা এবং ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি না হওয়া।
ধর্মীয় আয়োজনে কঠোরতা : বাস্তব অভিজ্ঞতা
গত ১৩ ডিসেম্বর দক্ষিণবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান জামি’আ মুহিউসসুন্নাহ আলীপুর-এর জাতীয় তাফসীর মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম শায়খে চরমমোনাই এটি ছিল সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, দীনী ও শিক্ষামূলক একটি আয়োজন।তাঁকে স্বাগত জানাতে কোনো রাজনৈতিক স্লোগান বা প্রচারণা ছাড়াই মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
কমপক্ষে এক হাজার মোটরসাইকেল প্রস্তুত ছিল কেবল অতিথিকে সম্মান জানাতে।কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশ আসে—কোনো ধরনের শোডাউন করা যাবে না।
নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মানা হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি।
প্রশ্ন হলো—যদি একটি অরাজনৈতিক ধর্মীয় আয়োজনেও এমন কঠোরতা আরোপ করা হয়, তবে রাজনৈতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে এই কঠোরতা কোথায়?তারেক রহমানের সংবর্ধনা । আচরণবিধির ব্যতিক্রম,এই বাস্তবতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ঘোষিত মনোনীত প্রার্থী জনাব তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বড় পরিসরে সংবর্ধনার আয়োজন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। হাবিবুর রহমান মিসবাহ।
তারেক রহমান একজন প্রার্থী।একই সঙ্গে তিনি একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। তাঁর সংবর্ধনার জন্য বড় মঞ্চ নির্মাণ, ব্যাপক জনসমাগম ও আনুষ্ঠানিক আয়োজন—সবকিছুই নির্বাচনী আচরণবিধির আওতাভুক্ত। সংবর্ধনা কেবল সৌজন্যের বিষয় নয়; এটি রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।
এটি কার্যত—দলীয় শক্তি প্রদর্শন,জনমত প্রভাবিত করার আয়োজন।তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—একজন প্রার্থীর জন্য সংবর্ধনা কীভাবে বৈধ হয় যদি বৈধ হয়, তবে অন্যদের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কেন,এটি কি নির্বাচন কমিশনের আচরণগত বৈষম্য নয়?
প্রশ্ন নির্বাচন কমিশনকে- এই লেখার উদ্দেশ্য কোনো রাজনৈতিক দলকে দোষারোপ করা নয়। প্রত্যেক দলই তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে—এটাই স্বাভাবিক।কিন্তু নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো—সবার জন্য সমান আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা।এক পক্ষকে ছাড় দেওয়া হলে,আরেক পক্ষকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করলে তাহলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে,
নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ বাড়বে,সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর আস্থা ক্ষুণ্ন হবে।সুষ্ঠু নির্বাচন কেবল ভোটের দিনের বিষয় নয়।এটি শুরু হয় আচরণবিধির ন্যায্য ও সমান প্রয়োগ দিয়ে।নির্বাচন কমিশনের প্রতি প্রত্যাশা—একই আইন, একই মানদণ্ড, সবার জন্য সমান প্রয়োগ উচিত।


