পিলখানা হত্যা মামলায় তদন্ত এগোলেও ভুলে যাওয়া এক ‘নির্ভীক সাক্ষীর’ গল্প আলোচনায়
নতুন দৃষ্টিঢাকা: পিলখানা হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে চললেও আলোচনায় নতুন করে উঠে আসছে পিলখানা মসজিদের তৎকালীন ইমাম মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান–কে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও প্রশ্ন। ঘটনার দিন তিনি যে তথ্য দেখেছিলেন এবং তার ভিত্তিতে যে বক্তব্য দেন—তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার দিন যা দেখেছিলেন ইমাম
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ২০০৯ সালের আলোচিত ঘটনার দিন পিলখানার উত্তর গেট দিয়ে অস্ত্রধারী সৈনিকবোঝাই একটি পিকআপ ভেতরে ঢুকতে দেখেন ইমাম সিদ্দিকুর রহমান। পিকআপ থেকে নামার পরই ওই সদস্যরা দরবার হলে গুলি শুরু করে—এমন কথাও তিনি ফোনে স্ত্রীকে জানান। পরিবারের আরও দাবি, ওই সময় সৈনিকরা নিজেদের মধ্যে হিন্দি ও ইংরেজিতে কথা বলছিল বলে তিনি স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে অভিযোগ
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়। সেখানে তিনি যা দেখেছেন তা–ই বলেছেন। কিন্তু তার এই বর্ণনা তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি মহলকে ‘বিপাকে’ ফেলেছিল বলে পরিবারের অভিযোগ।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আবদুল কাহহার আকন্দ তাঁকে একটি ভিন্ন জবানবন্দিতে সই করাতে চাপ দেন এবং রাজসাক্ষী হওয়ার প্রলোভন দেখান। ইমাম সিদ্দিকুর রহমান এতে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।
আকস্মিক মৃত্যু ও পরিবারের অভিযোগ
জিজ্ঞাসাবাদের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন ইমাম সিদ্দিকুর রহমান। তাঁকে বিডিআর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দেখা করতে এসে তাঁর স্ত্রীকে ঘটনার বিস্তারিত জানান তিনি—এমন দাবি পরিবারের।
পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয় এবং তা ছিল ‘অস্বাভাবিক’। পরিবার আরও অভিযোগ করে যে, তাঁকে বিষাক্ত স্যালাইন বা ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়া ময়নাতদন্তও সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হওয়ায় পরিবারের সন্দেহ আরও বেড়ে যায় বলে তারা জানায়।
পরিবারের ভাষ্যে ‘সত্যবাদী’ সিদ্দিকুর রহমান
পরিবার বলছে, জীবনের ঝুঁকি জেনেও ইমাম সিদ্দিকুর রহমান নিজের দেখা তথ্য থেকে এক চুলও নড়েননি। সত্যকে অস্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি চাপের মুখে পড়েছিলেন—এমন দাবি পরিবারের সদস্যদের।
তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেই
তবে এসব অভিযোগ সম্পর্কে তদন্ত সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পিলখানা হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলছে এবং রাষ্ট্রপক্ষ বলছে—ঘটনাটির বহুমাত্রিক জটিলতা বিবেচনায় সব তথ্য যাচাই করেই আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।


