নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা চলন্ত ট্রেনের দরজার বাইরে ঝুলে আছেন এক তরুণ হকার। মাথায় পানি ও জুসের বোতলভর্তি ভারী ঝুড়ি। ট্রেন চলছে পূর্ণ গতিতে, আর দরজায় তালা থাকায় ভেতরে ঢুকতে না পেরে হকারটি কেবল একটি হাতল ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। ভেতর থেকে যাত্রীরা বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল ‘মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস’-এর ফার্স্ট ক্লাস বগিতে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ধারণকারীর তথ্যানুযায়ী, হকারটি স্টপেজে উঠতে গিয়ে ব্যর্থ হন। তিনি দরজায় ওঠার আগেই ট্রেন ছেড়ে দেয় এবং গতি বাড়িয়ে ফেলে। ফার্স্ট ক্লাস বগির দরজাটি তালাবদ্ধ থাকায় তিনি ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। বাঁচার আর্তনাদ ও যাত্রীদের অসহায়ত্ব ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় দেখা যায়, হকার ছেলেটি প্রাণভয়ে চিৎকার করছিলেন। তার মাথায় ছিল প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কেজি ওজনের ভারী ঝুড়ি। তিনি এক হাতে দরজার হাতল আঁকড়ে ধরে ঝুলে ছিলেন। ট্রেনের ভেতর থেকে কয়েকজন যাত্রী দরজা খোলার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু তালাবদ্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। নেত্রকোনার আঞ্চলিক ভাষায় মমতা মাখানো স্বরে ভেতর থেকে এক যাত্রীকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “আবু, ভারী লাগলে ঝুড়ি ফেলে দাও।” কিন্তু আতঙ্কে জমে যাওয়া ছেলেটি তা করতে পারেনি। দায়িত্বশীলদের চরম অবহেলা এই মর্মান্তিক দৃশ্যের সবচেয়ে অমানবিক দিকটি ছিল রেলওয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মীর আচরণ। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার সময় স্যুট-বুট পরিহিত একজন টিটি (টিকিট এক্সামিনার) ওই বগিতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানালার কাচের ওপাশ থেকে মৃত্যুর মুখে থাকা ছেলেটিকে দেখেও না দেখার ভান করে চলে যান। ট্রেন থামানোর বা দরজা খোলার কোনো উদ্যোগ তিনি নেননি বলে অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীদের। করুণ পরিণতি দীর্ঘক্ষণ মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করে অবশেষে চলন্ত ট্রেন থেকে ছিটকে পড়ে যান ওই হকার। এই ঘটনায় রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বশীলদের মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ যাত্রীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং দোষীদের বিচার দাবি করছেন।