যাত্রাবাড়ীতে মাদরাসার বাথরুম থেকে শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: হত্যা নাকি আত্মহত্যা?

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন "মাদরাসাতুল ইত্বকান" হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষকের অ্যাটাচ বাথরুম থেকে মোঃ মোদাচ্ছির (৯) নামের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। শিশুটির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তার পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ এবং রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত মোদাচ্ছির কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার দামিহা ইউনিয়নের রাহেলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মাওলানা জিয়াউর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র।
ঘটনাস্থল ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, উদ্ধারের সময় শিশুটিকে গামছা পেঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত দেখা যায়। তবে সন্দেহজনক বিষয় হলো, সে সময় তার পা মেঝে স্পর্শ করে ছিল এবং গলায় স্পষ্ট আচঁরের দাগ লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের বক্তব্য
নিহতের পরিবারের ভাষ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে মোদাচ্ছিরের আচরণ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। তার মধ্যে কোনো মানসিক অস্থিরতা, ভয় বা আত্মহত্যার কোনো ইঙ্গিত দেখা যায়নি। পরিবারের প্রশ্ন, ৯ বছর বয়সী একটি ফুটফুটে শিশুর পক্ষে কি আদৌ এমন চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব? তারা সন্দেহ পোষণ করছেন যে, এটি আত্মহত্যা নয় বরং একটি হত্যাকাণ্ড, যা আড়াল করার চেষ্টা চলছে।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনা মাদরাসার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, শিশুদের তত্ত্বাবধান এবং শাসনব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। অভিভাবকদের মতে, যেখানে শিশুদের শিক্ষার জন্য নিরাপদ মনে করে পাঠানো হয়, সেখানে শিক্ষকের বাথরুমের মতো স্থানে এমন ঘটনা মাদরাসা কর্তৃপক্ষের চরম ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ।
তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি
সচেতন মহল মনে করছেন, অতীতেও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্যাতন বা হত্যার ঘটনাকে 'আত্মহত্যা' বলে চালিয়ে দেওয়ার নজির রয়েছে। তাই মোদাচ্ছিরের মৃত্যুর ঘটনাটিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ফরেনসিক রিপোর্ট, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং শিক্ষকদের জবানবন্দি জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
শিশু মোদাচ্ছিরের রহস্যজনক মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।


