নিজস্ব প্রতিবেদক  দীর্ঘ ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরেই রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত বিশাল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ, গণতন্ত্র, শান্তি ও জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। পরিকল্পনার ঘোষণা তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন-দেশের মানুষের জন্য আমার একটি পরিকল্পনা আছে।তিনি মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের “I have a dream” বক্তব্যের অনুকরণে বলেন, এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার ও উন্নয়নের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে।ঐক্যের আহ্বান বক্তব্যে তিনি বারবার জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন-দেশকে এগিয়ে নিতে হলে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। নিরাপদ বাংলাদেশের অঙ্গীকার তারেক রহমান বলেন-বাংলাদেশ এমন একটি দেশ হবে—যেখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।প্রতিটি মানুষ নির্বিঘ্নে ঘর থেকে বের হয়ে আবার নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে—এটাই তার প্রত্যাশা।গণতন্ত্র ও অধিকার প্রসঙ্গ বক্তব্যে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের কথা তুলে ধরেন। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী গণআন্দোলনের কথা উল্লেখ করে বলেন,দেশের মানুষ বারবার নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করেছে।বর্তমান সময়েও জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরে পেতে চায়। তরুণদের প্রতি বার্তা- তারেক রহমান তরুণ প্রজন্মের প্রতি আলাদা করে আহ্বান জানান। তিনি বলেন-দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তরুণদের চিন্তা, মেধা ও সাহসের ওপর।দেশ গড়ার দায়িত্ব এখন তাদের কাঁধেই নিতে হবে।শান্তি ও শৃঙ্খলার কথা তিনি বলেন-বাংলাদেশের মানুষ শান্তি চায়, অশান্তি নয়।দেশে আইন-শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মান নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ব্যক্তিগত অনুভূতি-বক্তব্যের শেষাংশে তারেক রহমান আবেগঘন কণ্ঠে তার অসুস্থ মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি দেশবাসীর কাছে তার মায়ের জন্য দোয়া কামনা করেন এবং বলেন,দেশের মানুষের ভালোবাসাই তাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেয়। সমাবেশের প্রেক্ষাপট-সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।