এসএসসি পাস না করেও স্নাতক যোগ্যতার পদে নিয়োগের অভিযোগ — লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় কেউ উত্তীর্ণ না হলেও রহস্যজনকভাবে চাকরি; তদন্তের দাবি সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও সচেতন নাগরিকদের।ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অভিনয় প্রশিক্ষক পদে আল আমিন শাহিনের নিয়োগকে ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ উঠলেও দীর্ঘদিন পার হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে সাংস্কৃতিক অঙ্গন, সাংবাদিক সমাজ এবং সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অভিনয় প্রশিক্ষক পদে আল আমিন শাহিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে একই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাইয়ের কথা ছিল। ওই পরীক্ষায় আবুল আহাদ (সোহেল আহাদ), আল আমিন শাহিন এবং এফকে স্বাধীনসহ কয়েকজন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া উল্লিখিত প্রার্থীদের মধ্যে কেউই নির্ধারিত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। অথচ সেই অবস্থাতেই রহস্যজনকভাবে আল আমিন শাহিনকে অভিনয় প্রশিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, অভিনয় প্রশিক্ষক পদে আবেদনকারীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক (গ্র্যাজুয়েট) হতে হবে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত আল আমিন শাহিন এসএসসি পরীক্ষাতেই উত্তীর্ণ নন এবং অভিনয় বা নাট্যকলা বিষয়ে তার কোনো স্বীকৃত প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতার সনদও নেই। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ না করেও কীভাবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পেলেন। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রাষ্ট্রীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। যদি অভিযোগ সত্য হয়, তবে এটি শুধু অনিয়ম নয়—এটি পুরো সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য লজ্জাজনক ঘটনা।”এদিকে বিষয়টি নিয়ে একাধিক সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিক ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের এমন নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।সচেতন নাগরিকদের মতে, অভিযোগের বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই না করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমে যেতে পারে। স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা বলছেন, একজন সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষক শুধু একটি পদ নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিল্পচর্চা গড়ে তোলার দায়িত্বও বহন করে। সেখানে যদি যোগ্যতা ও নীতিমালা উপেক্ষা করে নিয়োগ দেওয়া হয়, তবে তা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।এ বিষয়ে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠন করে আল আমিন শাহিনের নিয়োগ প্রক্রিয়া যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার নিয়োগ বাতিলসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।তবে এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন বা শিল্পকলা একাডেমির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি