বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর দেশজুড়ে সংগঠনটির তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ নেতাকর্মীরা চরম আইনি ও সামাজিক জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। নেত্রকোনা সদরের সাতপাই এলাকার যুবক ছোটনের ঘটনাটি এই চলমান সংকটের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোটন প্রাথমিক বিদ্যালয় (পঞ্চম শ্রেণি) থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। রাজনীতি করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার হলেও, বর্তমানে একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য হিসেবে থাকা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ। দলের প্রতি দীর্ঘদিনের ভালোবাসা ও আবেগের কারণে ছোটনের মতো অসংখ্য তরুণ এখনও সেই রাজনৈতিক মায়াজালে আটকে আছেন এবং ফলশ্রুতিতে বর্তমান পরিস্থিতিতে নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন।
সচেতন নাগরিক ও স্থানীয়দের অভিমত, ব্যক্তিগতভাবে তৃণমূলের এই কর্মীদের অনেকের সাথেই সাধারণ মানুষের কোনো শত্রুতা নেই। তবে তাদের আজকের এই পরিণতির জন্য মূলত আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড এবং শীর্ষ নেতৃত্বই ব্যাপকভাবে দায়ী।
স্থানীয়দের দাবি, শীর্ষ নেতৃত্বের ভুল সিদ্ধান্ত এবং অপকর্মের দায়ভার আজ তৃণমূলের সাধারণ কর্মীদের নিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার হাইকমান্ডের উচিত তাদের সমস্ত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং অপরাধ স্বীকার করে শাস্তি মাথা পেতে নেওয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ নেতৃত্ব যদি এই দায়ভার গ্রহণ করে, তবে অন্ততপক্ষে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের যেসব নেতাকর্মী অনুতপ্ত এবং নিজেদের শুধরে নিতে ইচ্ছুক, তারা একটি পরিচ্ছন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরায় স্বাভাবিক ও সুস্থ সামাজিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ পাবেন।



