কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেনকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই জেলায় অস্বাভাবিক এক রাজনৈতিক তৎপরতা দেখা গেছে। একটি প্রশাসনিক বদলির সিদ্ধান্ত দ্রুতই রূপ নিয়েছে মাঠের আন্দোলন, পাল্টা কর্মসূচি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তর্কে।

রোববার সন্ধ্যায় প্রজ্ঞাপন জারির পর রাতেই শহরে বিক্ষোভ মিছিল হয়। ‘জুলাই যোদ্ধা ও কুষ্টিয়া সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে আন্দোলনে অংশ নেন জামায়াত-শিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাকর্মীরা। তাঁদের দাবি, ইকবাল হোসেন দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন এবং জেলায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছেন। তাই তাঁকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁরা মেনে নেবেন না।

সোমবার সকালে মজমপুর এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে ডিসি অফিসের নিচতলা থেকে দোতলার সিঁড়ি পর্যন্ত দখল করে স্লোগান দেওয়া হয়। বেলা একটার দিকে ডিসি কার্যালয় ত্যাগ করতে চাইলে তাঁর গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। প্রায় আধাঘণ্টা পর তিনি সেখান থেকে ছেঁউড়িয়ার লালন একাডেমির উদ্দেশে রওনা দেন।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। এমনকি ডিসি অফিসে তালা ঝুলিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ডিসিকে বহাল রাখার পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা দেখা গেছে।

অন্যদিকে, একই সময়ে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট, জেলা প্রশাসককে রাখা বা প্রত্যাহার করা সম্পূর্ণভাবে সরকারের এখতিয়ার। তাঁদের অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক পক্ষ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ইস্যু করে মাঠে শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। তাঁরা একে ‘মব সন্ত্রাস’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা জানান।

রাজনৈতিক বক্তব্যও পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করেছে। কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আমির হামজা রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, যদিও পরে সেটি আর দেখা যায়নি। অন্যদিকে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী জাকির হোসেনও একটি স্ট্যাটাসে প্রশাসনিক বদলিকে ঘিরে বিশেষ মহলের সক্রিয়তার প্রশ্ন তোলেন।

সব মিলিয়ে, একটি রুটিন প্রশাসনিক বদলি কুষ্টিয়ায় রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এক পক্ষ বিষয়টিকে ‘সততার পক্ষে আন্দোলন’ হিসেবে তুলে ধরছে, অন্য পক্ষ বলছে এটি প্রশাসনিক বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, নাকি এ ইস্যু আরও বড় রাজনৈতিক মেরুকরণে গড়ায়।