নেত্রকোনা প্রতিনিধি | বাকি বিল্লাহ 

ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, অতীত আমলের প্রশাসনিক কাঠামোর চেয়ে বর্তমান সরকার জনগণকে অনেক বেশি উন্নত ও জনবান্ধব সেবা প্রদানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে তারা আইন ও সংবিধান অনুযায়ী জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে বাধ্য।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:

  • প্রশাসনিক স্থবিরতা ও জবাবদিহিতা: বিগত ১৫ বছরের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কোনো নির্বাচনেই জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল না। জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার অভাবে এ দীর্ঘ সময় প্রশাসনে এক ধরণের স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল।
  • সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ: তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। জনপ্রতিনিধি ও সিভিল সার্ভেন্টরা একসঙ্গে টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করলেই কেবল জনগণের প্রকৃত সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
  • জুলাই বিপ্লবের আত্মত্যাগ: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই বিপ্লবে প্রায় ২ হাজার শহীদ বুলেট বুকে নিয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের এই চরম আত্মত্যাগের বিনিময়েই দেশে আজ মুক্ত পরিবেশ ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
  • নতুন বাংলাদেশ গঠন: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান—এই দুটি রক্তাক্ত সংগ্রামের ইতিহাস ও চেতনাকে বুকে ধারণ করে সম্মিলিতভাবে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. আনোয়ারুল হক, নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী এবং নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা। এছাড়াও জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুখময় সরকার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম নিজ নিজ বিভাগের কাজের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, কৃষি সম্প্রসারণ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ, খাদ্য, সমাজসেবা এবং মৎস্যসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরের প্রধানরা স্লাইড প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তাদের দপ্তরের বর্তমান কার্যাবলি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সমাধানের উপায় সম্পর্কে প্রধান অতিথিকে অবহিত করেন।