কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের লতিবাবাদ পূর্ব চরপাড়া গ্রামে আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে বিটুমিন গলানোর ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষের জনজীবন। গ্রামের ঠিক মাঝখানে বিষাক্ত রাসায়নিক মিশ্রিত বিটুমিন আগুনে পুড়িয়ে রাস্তা নির্মাণের উপকরণ তৈরি করায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীরা।



সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লতিবাবাদ পূর্ব চরপাড়া গ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিশালাকার চুল্লি বসিয়ে বিটুমিন গলানো হচ্ছে। সেখান থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া ও উৎকট গন্ধে পুরো এলাকার বাতাস ভারী হয়ে আছে। ধোঁয়া ও ধূলিকণার সংমিশ্রণে আশপাশের তিন-তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনরাত বিটুমিন পোড়ানোর ফলে শ্বাসকষ্ট, চোখের সমস্যা ও চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও নবজাতকদের নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন অভিভাবকরা।



প্রায় ৬-৭ হাজার মানুষের বসবাসকারী এই এলাকায় অন্য একটি অঞ্চলের রাস্তা নির্মাণের নামে এই "ডেথ ট্র্যাপ" বসিয়েছে একটি কুচক্রী মহল। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে সংশ্লিষ্টরা স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী জানান, রাজনৈতিক শক্তির ভয় দেখিয়ে জনবসতির ওপর এই বিষাক্ত ধোঁয়া চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাধা দিলে মিলছে হুমকি, ফলে সাধারণ মানুষ কথা বলতেও সাহস পাচ্ছে না।



পরিবেশবিদদের মতে, আবাসিক এলাকায় খোলা আকাশের নিচে বিটুমিন পোড়ানো হলে তা বাতাসে কার্বন মনো অক্সাইড ও সালফার ডাই অক্সাইডের মতো মারাত্মক বিষ ছড়ায়, যা দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। এছাড়াও বিটুমিন গলানোর ভারী যন্ত্রপাতির শব্দে তীব্র শব্দদূষণ সৃষ্টি হচ্ছে।



লতিবাবাদ পূর্ব চরপাড়ার বাসিন্দারা অনতিবিলম্বে এই বিষাক্ত চুল্লি জনবসতিহীন এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায়, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় স্থানীয়রা বড় ধরনের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।


একটি জনবহুল গ্রামের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিসর্জন দিয়ে কতিপয় প্রভাবশালীর এমন কর্মকাণ্ড কতটুকু আইনসম্মত, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।