কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নে একটি পাকা রাস্তার উন্নয়ন কাজকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে ঠিকাদারপক্ষের উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের ভাই আব্দুল মান্নানের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) উপজেলার অঞ্জনগাছী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রাস্তার কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এ অভিযোগ তুলে তারা কাজ বন্ধের চেষ্টা করলে সেখানে উপস্থিত হন ইটভাটা মালিক আব্দুল মান্নান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ১৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “সেই গরমের যুগ নাই, এখন মনে করবি কুষ্টিয়া এখন গফুরের হাতের ভিতর।” আরেকটি অংশে তিনি বলেন, “আমার ড্রাইভারকে মারতে যাবা আর আমি বসে তামাক খাবো । তবে আব্দুল মান্নান দাবি করেন, তিনি নিম্নমানের ইট সরবরাহ করেননি। তার ভাষ্য, স্থানীয় বিএনপির কিছু লোক চাঁদার দাবিতে কাজে বাধা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “আপনারা এসে দেখে বিবেচনা করেন আমি কয় নম্বর ইট দিচ্ছি। ইটের গাড়ি আসার সময় হেলাল নামের এক ব্যক্তি আমার ড্রাইভারের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে।তিনি আরও বলেন, “যে ঠিকাদার কাজ করছেন তিনি নতুন। আমার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক আছে। আমি তার একটি কাজ কিনতে চেয়েছিলাম। তবে এমপিকে নিয়ে যে কথা বলেছি, সেটা বলা আমার ঠিক হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে কুষ্টিয়া-2 আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মিরপুর উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আমলা ইউনিয়নের নিমতলা থেকে কালিতলা পর্যন্ত প্রায় পৌনে চার কিলোমিটার রাস্তার মেরামত কাজ চলছে। প্রায় ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি করছে কুষ্টিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চঞ্চল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল। চুক্তি অনুযায়ী রাস্তার কাজে ১ নম্বর ইট ব্যবহারের কথা রয়েছে।তবে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, সেখানে ২ ও ৩ নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, ঘটনার পর স্থানীয় একটি পক্ষকে পিকনিকের খরচ দেওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমঝোতা করা হয়েছে।কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা সহকারী ঠিকাদার সাবু বলেন, “রাস্তার কাজে কোনো নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে না।” তবে স্থানীয়দের সঙ্গে সাময়িক বিরোধের কথা তিনি স্বীকার করেন। এ বিষয়ে এলজিইডির মিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জহির মেহেদী হাসান বলেন, “নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়। এটি মূলত রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। এমপি সাহেবের ভাই ঠিকাদারকে ইট সরবরাহ করায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কাজের বাধা দিয়েছিল। পরে বিষয়টি বসে সমাধান করা হয়েছে।



