মোহাম্মদ সেলিম
জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে শিল্পকলা একাডেমির অভিনয় প্রশিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগ। স্থানীয় এক মিডিয়া কর্মী আল আমিন শাহীন-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও যোগ্যতা সংক্রান্ত প্রশ্ন তুলে সচেতন মহলের পক্ষ থেকে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত অভিনয় প্রশিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় আবুল আহাদ (সোহেল), আল আমিন শাহীন ও এফ কে স্বাধীন অংশগ্রহণ করেন। লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উল্লেখিত তিনজনের কেউই উত্তীর্ণ হননি বলে দাবি করা হচ্ছে। তবুও গত ২৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে আল আমিন শাহীনকে অভিনয় প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়—যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সর্বনিম্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক (গ্র্যাজুয়েশন) উল্লেখ থাকলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, আল আমিন শাহীন এসএসসি পাস করেননি এবং অভিনয় বিষয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতার সনদও নেই। ফলে কীভাবে তিনি এ পদে নিয়োগ পেলেন—তা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অতীতে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিশেষ করে র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একজন মিডিয়া কর্মীর নৈতিক অবস্থান হওয়া উচিত অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা। সেখানে যদি তার বিরুদ্ধেই অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তবে তা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
তারা দাবি করেছেন, যদি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়ে থাকে, তবে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



