ভোলার দৌলতখান উপজেলায় ভুয়া পরিচয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চেষ্টাকালে এক রোহিঙ্গা দম্পতিকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের ভোটার হতে সহায়তাকারী স্থানীয় দুই বাসিন্দাকেও আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। কক্সবাজারের টেকনাফ ক্যাম্প থেকে পালিয়ে এসে তাঁরা বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, গত বুধবার বিকেলে দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়ন পরিষদে নতুন ভোটারদের নাম হালনাগাদ ও ছবি তোলার কার্যক্রম চলছিল। এ সময় আব্দুল হালিম ও উম্মুল খায়ের নামের ওই দম্পতি নিজেদের দেড় বছরের সন্তানকে নিয়ে ছবি তুলতে আসেন। কিন্তু তাঁদের কথাবার্তা, উচ্চারণ ও আচার-আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন সবুজ তাঁদের নাম-ঠিকানা নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।
জেরার মুখে একপর্যায়ে তাঁরা সঠিক তথ্য দিতে ব্যর্থ হন এবং স্বীকার করেন যে তাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক নন, বরং কক্সবাজারের টেকনাফ ক্যাম্প থেকে আসা রোহিঙ্গা।
এই রোহিঙ্গাদের টাকার বিনিময়ে ভুয়া পরিচয়ে ভোটার বানাতে স্থানীয় একটি চক্র কাজ করছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। চরপাতা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জুলফিকার আলী ও তাঁর বোন ফাতেমা এই দম্পতিকে সহায়তা করতে ইউনিয়ন পরিষদে এসেছিলেন। সত্যতা বেরিয়ে আসার পর স্থানীয়রা ওই দুই স্থানীয় সহযোগীকেও আটকে রাখে।
খবর পেয়ে দৌলতখান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে রোহিঙ্গা দম্পতি ও তাঁদের দুই সহযোগীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান জানান, "নির্বাচন কমিশনের সতর্কতার কারণে বড় ধরনের একটি জালিয়াতি হাতেনাতে ধরা পড়েছে। আটককৃত চারজনের বিরুদ্ধেই জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
টাকার বিনিময়ে বহিরাগত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র পাইয়ে দেওয়ার এই অপচেষ্টাকে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এনআইডি জালিয়াতির সাথে জড়িত দালাল চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি, ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম চলাকালীন অপরিচিত কাউকে এলাকায় দেখলে প্রশাসনকে জানানোর জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।



