পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, "জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। আমাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো কীভাবে দ্রুত দৃশ্যমান করা যায়, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা নিরলস কাজ করছি।"
বুধবার সকালে কেরানীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ও জনগুরুত্বপূর্ণ শুভাঢ্যা খালের পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী জানান, শুভাঢ্যা খালের খনন কাজের প্রথম ধাপটি আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, "খাল খনন কর্মসূচি কেবল একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি একটি বিপ্লব এবং জনগণের আন্দোলন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার যে খাল খনন আন্দোলন শুরু করেছিলেন, তা মাঝপথে অনেক বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আজ আমরা সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।"
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, এলাকাবাসীর প্রয়োজনে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে খালের পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। তবে তিনি খালের বর্জ্য অপসারণ এবং অবৈধ দখলদারিত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "খালের অনেক জায়গায় অবৈধ ঘরবাড়ি ও দোকানপাট গড়ে তোলা হয়েছে। জনস্বার্থে স্থানীয়দের সাথে আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা এই বিরোধ নিষ্পত্তি করতে চাই। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া এই প্রকল্পের পূর্ণ সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়।"
শুভাঢ্যা খাল পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, ফরহাদ হোসেন আজাদ, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, ডক্টর এ কে এম শাহাবুদ্দিন, সচিব, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, মোঃ উমর ফারুক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কেরানীগঞ্জ, অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা জেলা বিএনপি।
শুভাঢ্যা খালের কাজ পরিদর্শন শেষে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি কেরানীগঞ্জের আটি জয়নগর এলাকায় অবস্থিত আঁটি খাল পরিদর্শনে যান। সেখানে ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আলহাজ্ব আমান উল্লাহ আমান মন্ত্রীকে খালের বর্তমান অবস্থা ও খনন কাজের প্রয়োজনীয়তা ঘুরে দেখান। এসময় নেতৃবৃন্দ স্থানীয় কৃষিজীবী মানুষের সাথে কথা বলেন এবং খালটির নাব্যতা ফিরিয়ে এনে কৃষি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী এ্যানি জানান, প্রথম ধাপের কাজের পাশাপাশি দ্বিতীয় ধাপের কাজ কীভাবে দ্রুত শুরু করা যায়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। সম্পূর্ণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে কেরানীগঞ্জের জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।