নতুন দৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
এক সময় সরকারি অফিস মানেই ছিল দীর্ঘ লাইন, দালালদের দৌরাত্ম্য আর দিনের পর দিন অপেক্ষা। সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি কমাতে এবং প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা আনতে সরকারি সেবাগুলো এখন চলে এসেছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। ‘স্মার্ট সিটিজেন’ গড়ার লক্ষ্যে এখন ঘরে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে মিলছে ডজনখানেক জরুরি নাগরিক সেবা।
কোন কোন সেবা এখন হাতের মুঠোয়?
- প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি দপ্তরগুলো এখন অনেক বেশি জনবান্ধব। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু সেবা হলো:
- ভূমি সেবা ডিজিটাল: জমির খতিয়ান বা পর্চা তোলার জন্য এখন আর তহশিল অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ‘ই-খতিয়ান’ বা ‘ভূমি সেবা’ অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই আবেদন করা যাচ্ছে এবং নামমাত্র ফি দিয়ে অনলাইনে কপি সংগ্রহ করা সম্ভব। এছাড়া জমির উন্নয়ন কর বা খাজনাও এখন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়।
- ই-পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন: পাসপোর্ট করার জটিলতা এখন অনেকটাই কমেছে। অনলাইনে ই-পাসপোর্টের ফর্ম পূরণ করে, ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে শুধুমাত্র বায়োমেট্রিক ও ছবি তোলার জন্য অফিসে যেতে হয়। এতে কমেছে দালালদের প্রভাব।
- জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা: এনআইডি হারিয়ে গেলে বা তথ্য সংশোধনের জন্য এখন নির্বাচন অফিসে ধর্না দিতে হয় না। নির্দিষ্ট পোর্টালে লগইন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করলেই সমাধান মিলছে দ্রুত। এমনকি অনলাইন কপিও ডাউনলোড করা যাচ্ছে।
- জরুরি সেবা ৯৯৯: এটি নাগরিকদের জন্য একটি গেম চেঞ্জার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যেকোনো দুর্ঘটনায় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজনে ৯৯৯-এ কল করলেই মিলছে তাৎক্ষণিক সহায়তা।
নাগরিকদের করণীয়:
এই সুবিধাগুলো পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে ডিজিটাল লিটারেসি বা প্রযুক্তিগত জ্ঞান থাকা জরুরি। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার জানা থাকলে সময় ও অর্থ—দুটোই সাশ্রয় করা সম্ভব। তবে অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রযুক্তিবিদরা।
ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের পথে যাত্রায় এই অনলাইন সেবাগুলো নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।