আহমদ আলী কাসেমীর আবির্ভাবে বদলাচ্ছে কিশোরগঞ্জ-১ এর রাজনৈতিক সমীকরণ দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে বাড়ছে জনসম্পৃক্ততা, নির্বাচনী মাঠে নতুন গতিধারা

রিপোর্টার এইচ, এম, তানভীর আহমেদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের রাজনৈতিক চিত্রে লক্ষণীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শায়খুল হাদিস মাওলানা আহমদ আলী কাসেমীর সরাসরি মাঠে নামার মধ্য দিয়ে এই পরিবর্তনের গতি আরও দৃশ্যমান হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। দেয়াল ঘড়ি প্রতীককে ঘিরে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নির্বাচনী পরিবেশে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
দীর্ঘদিনের দ্বীনি খেদমত, পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিগত জীবন এবং রাষ্ট্র ও সমাজ বিষয়ে দায়িত্বশীল অবস্থানের কারণে মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী ইসলামী অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও সুপরিচিত একটি নাম। ইসলামী মনোভাবাপন্ন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সমঝোতার প্রতীক হিসেবেও তাঁকে দেখা হচ্ছে।
শুধু ধর্মীয় আলোচনা নয়, দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর রাজনৈতিক ও সমসাময়িক টকশোতেও নিয়মিত অংশগ্রহণ করে তিনি নিজেকে একজন ভারসাম্যপূর্ণ ও যুক্তিনির্ভর বক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ধর্ম, রাষ্ট্র ও চলমান জাতীয় ইস্যুতে তাঁর পরিমিত বক্তব্য তাঁকে গণমাধ্যমে গ্রহণযোগ্যতা এনে দিয়েছে।
বর্তমানে খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালনরত মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। পাশাপাশি ঢাকা-১০ আসন থেকেও তিনি মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের কালিকাবাড়ী গ্রামে তাঁর পৈতৃক নিবাস। যদিও কর্মজীবনের বড় একটি সময় তিনি ঢাকায় অবস্থান করে দাওয়াতি, শিক্ষামূলক ও মিডিয়াভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, তবুও নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বরাবরই গভীর ও আবেগঘন। যশোদল ইউনিয়নের অনেক বাসিন্দার মতে, এলাকার সন্তান হিসেবে দল-মত নির্বিশেষে তাঁকে সংসদে পাঠাতে তারা একত্রিত হতে প্রস্তুত।
সাধারণ ভোটারদের আবেগে বিশেষভাবে প্রভাব ফেলেছে তাঁর পারিবারিক বেদনার বিষয়টি। ২০১৩ সালে তাঁর বড় ছেলে আবু হানিফা নুমান গুমের শিকার হন বলে পরিবার অভিযোগ করে আসছে। আজও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। দীর্ঘদিন ধরে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জনমনে গভীর সহানুভূতির সৃষ্টি করেছে।
এছাড়া ২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন, ৫ মে শাপলা চত্বরে নির্যাতনের শিকার হওয়া, দীর্ঘ সময় কারাবরণ এবং রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের অভিজ্ঞতা তাঁর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও সহমর্মিতা বাড়িয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, কিশোরগঞ্জ-১ আসনটি অতীতে আলেম-উলামাদের প্রতিনিধিত্বে সমৃদ্ধ ছিল। এই আসন থেকে প্রয়াত মাওলানা আতাহার আলী (রহ.) ও মাওলানা আতাউর রহমান খান (রহ.) জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আবারও একজন যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য আলেমকে সংসদে দেখতে চান ধর্মপ্রাণ ও সচেতন ভোটাররা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, ইসলামী দলগুলোর মধ্যে বাস্তবসম্মত ঐক্য গড়ে উঠলে মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী এই আসনে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি এবং দীর্ঘদিনের দ্বীনি ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা তাঁকে একজন সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে।



