চীফ রিপোর্টার আজিজুল হক  মানব সম্পর্ক গড়ে ওঠে বিশ্বাসের উপর। পরিবার, বন্ধুত্ব, সহকর্মিতা কিংবা সামাজিক–রাজনৈতিক সম্পর্ক—সব কিছুর মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক আস্থা। এই আস্থায় একবার চিড় ধরলে তা মেরামত করা যেমন কঠিন, তেমনি কখনো কখনো অসম্ভবও হয়ে ওঠে। বাস্তবতা হলো, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে বহু কারণের প্রয়োজন হয় না—একটি মিথ্যাকে প্রমাণ করতে পারলেই যথেষ্ট। মিথ্যা ও বিশ্বাস ভঙ্গের মনস্তত্ত্ব মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, মানুষ তার নিকটজনের কাছ থেকে সত্য প্রত্যাশা করে। সেই প্রত্যাশা ভেঙে গেলে কেবল একটি ঘটনাই প্রশ্নবিদ্ধ হয় না; বরং পুরো সম্পর্কের অতীত ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, একবার প্রমাণিত মিথ্যা মানুষের মনে স্থায়ী সন্দেহের জন্ম দেয়, যা পরবর্তী সত্যকেও অবিশ্বাস্য করে তোলে। প্রমাণ: সম্পর্ক ভাঙনের চূড়ান্ত ধাপ মিথ্যা যতক্ষণ সন্দেহের পর্যায়ে থাকে, ততক্ষণ সম্পর্ক টিকে থাকার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু যখন সেই মিথ্যার প্রামাণ্য তথ্য সামনে আসে, তখন আবেগের জায়গায় যুক্তি ও বিচার প্রাধান্য পায়। প্রমাণ সম্পর্ককে কেবল দুর্বলই করে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা চূড়ান্ত বিচ্ছেদের পথে ঠেলে দেয়। সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিসরে মিথ্যার প্রভাব ব্যক্তিগত সম্পর্কের মতোই সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রেও মিথ্যার পরিণতি ভয়াবহ। সাংবাদিকতা, রাজনীতি, প্রশাসন কিংবা ধর্মীয় নেতৃত্ব—যে ক্ষেত্রেই হোক, একবার মিথ্যা প্রমাণিত হলে বিশ্বাসযোগ্যতা দীর্ঘদিনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বাস হারানো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জনগণ দ্বিতীয়বার গ্রহণ করতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ে। ডিজিটাল যুগে মিথ্যার ঝুঁকি বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাই সহজ হওয়ায় মিথ্যা আড়াল করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। পুরোনো বক্তব্য, নথিপত্র, অডিও–ভিডিও কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট—সবই একসময় প্রমাণে পরিণত হতে পারে। ফলে একটি অসতর্ক মিথ্যাই সম্পর্ক, সম্মান ও সামাজিক অবস্থান ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট হয়ে উঠছে। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য মানুষ বহু ছাড় দেয়, কিন্তু একটি বিষয়ে কোনো আপস নেই—সত্য। কারণ সম্পর্ক ভাঙতে শত ভুলের দরকার হয় না; একটি মিথ্যা যখন প্রমাণিত হয়, তখন সেটিই হয়ে ওঠে বিশ্বাসের কফিনে শেষ পেরেক। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব ক্ষেত্রেই তাই সত্য ও স্বচ্ছতার বিকল্প নেই। লেখক: প্রফেসর মমিনুর রহমান