রাজনৈতিক প্রতিবেদক, চীফ রিপোর্টার আজিজুল হক  আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র মধ্যকার সম্ভাব্য জোট ও আসন বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরালো হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হয়—জামায়াত ৩০টি আসনের পরিবর্তে এনসিপিকে মাত্র ১০টি আসন দিতে যাচ্ছে। তবে তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, এই দাবি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় এবং বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণও নয়। জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এ বিষয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান এবং নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, “এনসিপিকে ১০টি আসন দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে—এটি সঠিক নয়। বিষয়টি নিয়ে এখনও আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।” রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, জামায়াত নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য জোটে একাধিক দল যুক্ত হওয়ার বিষয়ে নীতিগত সমঝোতা হলেও কোন দল কতটি আসনে প্রার্থী দেবে—সে সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়নি। প্রাথমিক আলোচনায় বিভিন্ন সংখ্যার কথা উঠে এলেও তা ছিল কেবল আলোচনাভিত্তিক, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় জোট রাজনীতিকে ঘিরে নানা তথ্য ও গুজব ছড়ানো স্বাভাবিক। তবে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা উল্লেখ করে খবর প্রকাশ করা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জামায়াত ও এনসিপি—উভয় পক্ষই নির্বাচনী কৌশল ও জনসমর্থনের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আসন সমঝোতায় যেতে চায়। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনা চলবে এবং নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। এনসিপিকে মাত্র ১০টি আসন দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি যাচাই-বাছাইয়ে অসত্য ও অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বাস্তবে জামায়াত-এনসিপি আসন বণ্টন এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পাঠকদের প্রতি অনুরোধ, গুজব নয়—নির্ভরযোগ্য ও যাচাই-কৃত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই রাজনৈতিক সংবাদ গ্রহণ করুন।