এলপিজির নির্ধারিত মূল্য অমান্য: করিমগঞ্জের নেয়ামতপুর বাজারে ভোক্তা অধিকার আইনে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক করিমগঞ্জ থেকে
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি অথরিটি (বিইআরসি) ঘোষিত সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির দায়ে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নেয়ামতপুর বাজারে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বিইআরসি গত ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজি সিলিন্ডারের সর্বশেষ মূল্য তালিকা প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১,৩০৬ টাকা। একই সিদ্ধান্তে অন্যান্য ওজনের সিলিন্ডারের দামও পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
তবে বাজার বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, ঘোষিত মূল্য বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করে ভোক্তাদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তৎপর হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ করিমগঞ্জ উপজেলার নেয়ামতপুর বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নেতৃত্বে বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অভিযানে প্রমাণ পাওয়া যায়, একটি প্রতিষ্ঠান সরকার নির্ধারিত ১,৩০৬ টাকার পরিবর্তে প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার ১,৭০০ টাকা দরে বিক্রি করছে।
অভিযোগের সত্যতা প্রতীয়মান হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ১০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, জ্বালানি পণ্যের মতো অত্যাবশ্যক পণ্যে মূল্য কারসাজি সামাজিক অপরাধের শামিল। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অযৌক্তিকভাবে বেড়ে যায়। এ কারণে ভবিষ্যতেও এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—কেউ যদি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির তথ্য পান, তবে তাৎক্ষণিকভাবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য।
বিশ্লেষকদের মতে, নিয়মিত বাজার নজরদারি ও ভোক্তা সচেতনতা বাড়ানো গেলে এলপিজি বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।



