ঐতিহ্যের ধানের শীষ ও বাচ্চু মোল্লার ব্যক্তি ইমেজে উজ্জীবিত দৌলতপুর

তানভীর আজাদ , কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:
সীমান্তবর্তী জনপদ কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজছে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ততই স্পষ্ট হচ্ছে আগামীর মেরুকরণ। প্রধান তিন প্রার্থী মাঠে থাকলেও আলোচনা ও জনপ্রিয়তার তুঙ্গে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। পারিবারিক ঐতিহ্য, ব্যক্তিগত ক্লিন ইমেজ এবং দুর্দিনের ত্যাগী নেতৃত্বের কারণে দৌলতপুরের নির্বাচনী সমীকরণে তিনি অনেকটা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।পারিবারিক ঐতিহ্য ও জনপ্রিয়তার শেকড় দৌলতপুরের রাজনীতিতে ‘মোল্লা পরিবার’ একটি আবেগের নাম। বাচ্চু মোল্লার পিতা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও তিনবারের সফল সংসদ সদস্য মরহুম আহসানুল হক পচা মোল্লা ছিলেন এলাকার সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু। সেই উত্তরাধিকার বহন করে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা ২০০৪ সালের উপ-নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে নিজের সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছিলেন। স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ ভোটারদের মতে, "পচা মোল্লার অসমাপ্ত কাজগুলো বাচ্চু মোল্লাই শেষ করতে পারবেন—এই বিশ্বাস সাধারণ মানুষের মজ্জাগত।"
বাচ্চু মোল্লার এগিয়ে থাকার কারণ দীর্ঘ দেড় দশক প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও দৌলতপুর উপজেলা বিএনপিকে সুসংগঠিত রাখতে বাচ্চু মোল্লার ভূমিকা অনস্বীকার্য। তৃণমূল কর্মীদের সাথে তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ তাকে দলের মধ্যে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে। সাধারণ মানুষের সাথে তার সহজলভ্যতা ও সদালাপী আচরণ তাকে দল-মত নির্বিশেষে জনপ্রিয় করেছে। বিশেষ করে করোনাকালীন সময় ও সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতিতে তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।সাবেক এমপি হিসেবে তার সংক্ষিপ্ত মেয়াদে দৌলতপুরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে যে ধারা শুরু হয়েছিল, ভোটাররা তা পুনরায় ফিরে পেতে আগ্রহী।বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লাকে নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ কাজ করছে। বহিষ্কৃত হওয়ার পর হাবলুর ওপর সাধারণ ভোটারদের আস্থা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে, যার সুফল সরাসরি পাচ্ছেন বাচ্চু মোল্লা এবং জামায়াত প্রার্থী স্থানীয় না হওয়ায় এবং সাংগঠনিকভাবে বিএনপির চেয়ে পিছিয়ে থাকায় ভোটের লড়াইয়ে বাচ্চু মোল্লার কোনো বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারছেন না তারা। ধানের শীষের জোয়ার
মাঠ পর্যায়ে ঘুরে দেখা গেছে, দৌলতপুরের প্রতিটি হাট-বাজার এবং প্রত্যন্ত গ্রামে বাচ্চু মোল্লার প্রচারণায় উপচে পড়া ভিড়। তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাকে নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তরুণ ভোটাররা বলছেন, তারা এমন একজন প্রতিনিধি চান যিনি এলাকার আইন-শৃঙখলা রক্ষা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সাহসী ভূমিকা রাখবেন, যেখানে বাচ্চু মোল্লাই তাদের প্রথম পছন্দ।
রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন:
"দৌলতপুরের মানুষ আমার পরিবার। আমার বাবার প্রতি তাদের যে ভালোবাসা, তা আজ আমায় দায়বদ্ধ করে তুলেছে। আমি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, দৌলতপুরের মানুষের সেবা ও এই জনপদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। ইনশাআল্লাহ, ধানের শীষের জয় মানে দৌলতপুরের মানুষের জয়।"স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুষ্টিয়া-১ আসনে ধানের শীষের ভোটব্যাংক বরাবরই সংহত। তার ওপর বাচ্চু মোল্লার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও পারিবারিক ঐতিহ্য যুক্ত হওয়ায় এবার একটি রেকর্ড সংখ্যক ভোটের জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন তারা। সব মিলিয়ে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দৌলতপুরের নির্বাচনী ময়দানে বাচ্চু মোল্লাই এখন পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য।



