করটিয়া জমিদারের বিরুদ্ধে সরকারি ও ওয়াকফ জমি বিক্রির গুরুতর অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের করটিয়া জমিদার পরিবারের সদস্য ওয়াজিদ আলী খান পন্নী ও মোর্শেদ আলী খান পন্নীর বিরুদ্ধে সরকারি জমি, ওয়াকফকৃত জমি এবং অধিগ্রহণকৃত (একোয়ার) জমি অবৈধভাবে বিক্রি, একাধিকবার বায়না ও লিজ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আইনকে উপেক্ষা করে একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে একাধিকবার বিক্রি ও বায়না করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, করটিয়া জমিদারের মোট ওয়ারিশান সংখ্যা প্রায় ৮৫ জন। অথচ ওয়াজিদ আলী খান পন্নী কোনো ওয়ারিশ বা ওয়াকফ বোর্ডের কাছ থেকে বৈধ পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি গ্রহণ না করেই নিজেকে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি ও ওয়াকফ বোর্ডের মুতাওয়াল্লী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন। জমিদারের অন্যান্য ওয়ারিশ ও ওয়াকফ বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ওয়াজিদ আলী খান পন্নীকে এ ধরনের কোনো অনুমোদন বা দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
অভিযোগে বলা হয়, ওয়াজিদ ও মোর্শেদ আলী খান পন্নী বিভিন্ন সময় ভুয়া পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমিদারি ও ওয়াকফভুক্ত জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার প্রলোভন দেখান। পরে বায়না নামার মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়। আরএস রেকর্ডে জমির মালিক হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের নাম থাকায় এসব জমির খাজনা খারিজ ও বৈধ রেজিস্ট্রি সম্ভব না হলেও ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে বায়না, বিক্রি ও দীর্ঘমেয়াদি লিজ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সিরাজগঞ্জের ৪০ থেকে ৫০ জন ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, সিরাজগঞ্জে জমি বিক্রির নামে কেউ ৩৫ লাখ, কেউ ২০ লাখ, কেউ ১০ লাখ টাকা করে দিয়ে সর্বমোট প্রায় ৫ কোটি টাকা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, এ অর্থ জমিদার পরিবার ও তাদের সহযোগী জহির রায়হান জনি আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সিএস ও এসএ খতিয়ানে জমিদারের নাম থাকার সুযোগ নিয়ে রেললাইন, বিশ্বরোড ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ডিসি অফিসে আপত্তি দাখিল করা হয়। পরে মূল মালিকদের ভয় দেখিয়ে ৫০ শতাংশ অর্থ নিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়। কারণ, অধিগ্রহণের বিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন বন্ধ থাকে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ চক্রের সঙ্গে ওয়াজিদ আলী খান পন্নী, মোর্শেদ আলী খান পন্নী ছাড়াও জহির রায়হান (জনি), ওহেদ শেখ, নাসিরউদ্দিন, কামাল শেখ, মাসুদসহ প্রায় ৩০ জন জড়িত। তারা একাধিকবার একই জমি বিক্রি, বায়না ও লিজ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ।
এই প্রতারণা বন্ধে ভুক্তভোগীরা দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়েরের পাশাপাশি ভূমি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক, ভূমি অফিস, পুলিশ সুপার, থানা প্রশাসন এবং সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ; কঠোর আইনি ব্যবস্থার আহ্বান
ও অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



