বিশেষ প্রতিনিধি, করিমগঞ্জ থেকে কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে গণসংযোগ ও প্রচার প্রচারণাকে ঘিরে। নির্ধারিত সময় ও বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য গণসংযোগে দেখা যাওয়ায় নির্বাচনকালীন শৃঙ্খলা ও সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মোঃ আলমগীর হোসেন তালুকদারকে নিয়মিতভাবে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব কর্মসূচিতে আচরণবিধির প্রযোজ্য ধারা মানা হচ্ছে কি না—তা স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে কয়েকজন অতিউৎসাহী নেতাকর্মী প্রচারপত্র বিতরণ ও অনানুষ্ঠানিক গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কার্যক্রমে সরকারি চাকরিরত তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কয়েকজন কর্মচারীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা আচরণবিধি অনুযায়ী গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কারণ, নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো—প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে কোনো অসংযত আচরণ বা প্রকাশ্য বিধিলঙ্ঘনে যুক্ত হতে দেখা যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, মাঠপর্যায়ে কর্মীদের অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ড নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে শুধু প্রার্থীদের নয়, তাদের সমর্থক ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আচরণ কঠোরভাবে নজরদারিতে রাখা জরুরি। একই সঙ্গে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা ও আচরণবিধির কার্যকর প্রয়োগই পারে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জনআস্থা বজায় রাখতে।