কিশোরগঞ্জের ৬টি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ- যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচনী মাঠে ধানের শীষের প্রার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার এইচ এম তানভীর আহমেদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ জেলার একাধিক সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক যাচাই শেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থীদের একটি বড় অংশের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে কিশোরগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন গতি এবং উত্তাপ ছড়িয়েছে।
কিশোরগঞ্জ-১: সদর–হোসেনপুর
কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন মাজহারুল ইসলাম মাজহার। যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কর্মকর্তারা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন, ফলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
কিশোরগঞ্জ-২: কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া
কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী এডভোকেট জালাল উদ্দিন মনোনয়নপত্র জমা দেন। দাখিলকৃত কাগজপত্র ও আইনি শর্ত পূরণ করায় নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নও বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।
কিশোরগঞ্জ-৩: করিমগঞ্জ–তাড়াইল
করিমগঞ্জ ও তাড়াইল উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন সাবেক সফল শিক্ষামন্ত্রী ডক্টর এম ওসমান ফারুক। যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়, যা এই আসনে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জোরালো করেছে।
কিশোরগঞ্জ-৪: অষ্টগ্রাম
হাওর অধ্যুষিত অষ্টগ্রাম আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন এডভোকেট ফজলুর রহমান। নির্বাচন কর্মকর্তারা যাচাই শেষে তার মনোনয়নপত্রকে বৈধ ঘোষণা করেন, যা হাওর এলাকার ভোটের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
কিশোরগঞ্জ-৫: নিকলী–বাজিতপুর আসন
নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কর্মকর্তারা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন, ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ হাওর ও জনবহুল আসনে বিএনপি প্রার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলো।
কিশোরগঞ্জ-৬: ভৈরব–কুলিয়ারচর
ভৈরব ও কুলিয়ারচর উপজেলা নিয়ে গঠিত শিল্প ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শরিফুল আলম মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়, যা এই আসনে বিএনপির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
সার্বিক মূল্যায়ন
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নির্বাচনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কিশোরগঞ্জ জেলার একাধিক আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার মধ্য দিয়ে দলটি নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে টিকে থাকার সুযোগ পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব আসনে বিএনপির প্রার্থীদের বৈধতা ঘোষণার ফলে কিশোরগঞ্জের নির্বাচন হবে বহুমাত্রিক, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও আলোচনাবহুল।
আগামী দিনে প্রতীক বরাদ্দ, প্রচারণা ও নির্বাচনী জোটের কৌশল নির্ধারণের মাধ্যমে জেলার রাজনৈতিক চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



