কিশোরগঞ্জ-৩: চুন্নুর মনোনয়ন বাতিল; ধানের শীষের ওসমান ফারুকের সামনে শক্ত চ্যালেঞ্জে হাতপাখা ও দাঁড়িপাল্লা

চীফ রিপোর্টার আজিজুল হক
কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে শুরুতেই বড় ধরণের হোঁচট খেয়েছে জাতীয় পার্টি। হলফনামায় ত্রুটির কারণে এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. মজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় ভোটের মাঠ এখন অন্য মেরুতে। বিশেষ করে ধানের শীষের প্রার্থী এবং ইসলামী ঘরানার দলগুলোর সক্রিয়তায় আসনটিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
ধানের শীষের কামব্যাক: ড. এম ওসমান ফারুকের জয়জয়কার
এই আসনে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী ড. এম ওসমান ফারুকের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হওয়ায় সাধারণ ভোটার ও নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সাবেক এই শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত ইমেজ এবং বিএনপির বিশাল ভোটব্যাংক তাঁকে এই মুহূর্তে জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রেখেছে।
চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে হাতপাখা ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী
ধানের শীষের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন অন্য দুই প্রভাবশালী প্রার্থী:
আলমগীর হোসেন তালুকদার (হাতপাখা): ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই প্রার্থী করিমগঞ্জ ও তাড়াইলের তৃণমূল পর্যায়ে বিশাল জনসমর্থন তৈরি করেছেন। সুসংগঠিত কর্মী বাহিনীর কারণে হাতপাখা প্রতীক এবার এই আসনে বড় চমক দেখাতে পারে।
ডা. কর্নেল (অব.) জিয়াদ খান (জামায়াত সমর্থিত): জামায়াতে ইসলামীর বিশাল ভোটব্যাংক ও সুশৃঙ্খল ক্যাডার ভিত্তিক রাজনীতির কারণে ডা. কর্নেল (অব.) জিয়াদ খান একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন। তাঁর প্রার্থিতা বৈধ হওয়ায় এই আসনের নির্বাচনী ফলাফল পাল্টে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে তাঁর বাহিনী।
সংবাদ বিশ্লেষণের বিশেষ কলাম:
সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুল হক চুন্নু যদি আপিলে ফিরতে না পারেন, তবে মূলত লড়াই হবে ধানের শীষের ড. এম ওসমান ফারুক, হাতপাখার আলমগীর হোসেন তালুকদার এবং জামায়াত সমর্থিত ডা. কর্নেল (অব.) জিয়াদ খানের মধ্যে। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাররা এবার দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি ব্যক্তির নৈতিক অবস্থানকেও বড় করে দেখছেন।
এক নজরে বর্তমান প্রার্থী তালিকা:
১. ড. এম ওসমান ফারুক - বিএনপি (ধানের শীষ)
২. আলমগীর হোসাইন তালুকদার - ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা)
৩. ডা. কর্নেল (অব.) জিয়াদ খান - জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। (দাঁড়িপাল্লা)



