কিশোরগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা সোমবার,কিশোরগঞ্জ‑৫ (নিকলী‑বাজিতপুর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল‑এর পক্ষে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি ১৭ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দলীয় প্রার্থী নয় এমন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতাদের নাম বিএনপি পক্ষের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিম্নলিখিত নেতৃবৃন্দকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে— মনিরুজ্জামান মনির – বাজিতপুর উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আমিনুল হক – বাজিতপুর উপজেলা বিএনপি সিনিয়র সহ‑সভাপতি শাহরিয়ার শামীম – দিঘীরপাড় ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মো. ফিরোজ খান – বলিয়ারদী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মানিক মিয়া – নিকলী উপজেলা বিএনপি সহ‑সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন – নিকলী উপজেলা বিএনপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম – জারইতলা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি পরশ মাহমুদ – ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মো. আলী হোসেন – দামপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি হারুন অর রশীদ – সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আবু তাহের – গুরুই ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আল মামুন – সদর ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মুক্তার – ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন – কারপাশা ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মো. তোফায়েল আহমেদ তপু – সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান – গুরুই ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন – নিকলী উপজেলা বিএনপি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক (উল্লেখিত নামগুলো প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও স্থানীয় সংবাদসূত্রের ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ‑৫ আসনে বিএনপি মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইকবাল নির্বাচন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তার কাছে ‘হাঁস’ প্রতীক রয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই প্রতীকটি তাকে বরাদ্দ করেছে। এর আগে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি ওই আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন দেয় সৈয়দ এহসানুল হুদাকে, কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে কিছু নেতাকর্মী ইকবালের পক্ষে অবস্থান নেয় যা সভ্য দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হিসাবে গণ্য হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে বলা হয়েছে, “দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কোনো কর্মী যদি স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে তাহলে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তার মতে, দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্য রক্ষাই এই বহিস্কারের মূল উদ্দেশ্য।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কিশোরগঞ্জ‑৫‑এ এই বহিষ্কার কর্মসূচি বিএনপি’র কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা ঠিক রাখার একটি কঠোর পদক্ষেপ। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কার্যক্রম চালানো স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে, যা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্রুত সামলাতে চাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা একটি আসনে সীমাবদ্ধ থাকলেও তা দলীয় ঐক্য ও যোগসাজশের প্রতি প্রতিশ্রুতিকে সামনে আনে।