বাগেরহাট (মোল্লাহাট) প্রতিনিধি: সজিব মোড়ল    শবে বরাত বা ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ (শাবান মাসের মধ্য রজনী) মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত। ইসলামি তাত্ত্বিক ও ওলামায়ে কেরামদের মতে, এই রাতের বিশেষ কিছু ফজিলত ও গুরুত্ব নিচে আলোচনা করা হলো: শবে বরাতের প্রধান ফজিলতসমূহ ক্ষমা ও রহমতের রাত: হাদিস অনুযায়ী, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির দিকে দয়ার দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ব্যক্তি ছাড়া বাকি সবাইকে ক্ষমা করে দেন (ইবনে মাজাহ)। দোয়া কবুলের সময়: এটি এমন একটি রাত যখন মহান আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং বান্দাদের ডাকতে থাকেন—কেউ কি আছ ক্ষমা চাওয়ার? আমি তাকে ক্ষমা করব। কেউ কি আছ রিজিক চাওয়ার? আমি তাকে রিজিক দেব। ভাগ্য নির্ধারণের ধারণা: অনেক ওলামায়ে কেরাম ও তাফসিরবিদ মনে করেন, এই রাতে আগামী এক বছরের হায়াত, মউত এবং রিজিকের ফয়সালা করা হয় (যদিও এ নিয়ে মতভেদ আছে, তবে ইবাদতের গুরুত্ব অনস্বীকার্য)। এই রাতের আমল এই রাতে নির্দিষ্ট কোনো ইবাদত ফরজ বা ওয়াজিব নয়, তবে সওয়াবের আশায় নিচের কাজগুলো করা যেতে পারে: নফল নামাজ: দীর্ঘ কিরাত ও দীর্ঘ সেজদাহর মাধ্যমে নফল নামাজ আদায় করা। কুরআন তিলাওয়াত: অর্থসহ কুরআন তিলাওয়াত করা এবং গভীরভাবে চিন্তা করা। জিকির ও তওবা: আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহের জন্য আন্তরিকভাবে তওবা করা। পরদিন রোজা রাখা: ১৫ই শাবান (শবে বরাতের পরের দিন) নফল রোজা রাখা মুস্তাহাব। একটি জরুরি কথা: শবে বরাত উপলক্ষে পটকা ফোটানো, আতশবাজি বা অতিরিক্ত আলোকসজ্জা করা ইসলামি শরিয়তের অংশ নয়। এটি একটি পবিত্র ইবাদতের রাত, তাই হইহুল্লোড় না করে একান্তে আল্লাহর ইবাদত করাই শ্রেয়।