নিজস্ব প্রতিবেদক | হাফেজ মাওলানা মোঃ বাকি বিল্লাহ
ইসলাম কেবল কিছু প্রথাগত উপাসনা বা রীতিনীতির সমষ্টি নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত যেমন ফরজ, তেমনি আল্লাহর সৃষ্টির সেবা করাও ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বারবার মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসার প্রতি তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সৃষ্টির সেবায় স্রষ্টার সন্তুষ্টি
ইসলামের মূল শিক্ষা হলো—স্রষ্টার ইবাদত করো এবং সৃষ্টিকে দয়া করো। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “দুনিয়াবাসীর ওপর তোমরা দয়া করো, তাহলে আসমানওয়ালা (আল্লাহ) তোমাদের ওপর দয়া করবেন।” (তিরমিজি)
একজন মুমিন কেবল নিজের আখেরাত গোছাতে ব্যস্ত থাকেন না, বরং তিনি তার চারপাশের মানুষ, প্রতিবেশী এবং সমাজের অবহেলিত শ্রেণির সুখ-দুঃখেও পাশে দাঁড়ান।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন:
“পূর্ব ও পশ্চিমে তোমাদের মুখ ফেরানোর মধ্যে কোনো পুণ্য নেই; বরং পুণ্য আছে কেউ আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতাগণ, আসমানি কিতাব ও নবীদের ওপর ঈমান আনলে এবং আল্লাহর প্রেমে আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকিন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী ও দাসেদের জন্য সম্পদ ব্যয় করলে...”
— (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৭৭)
সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মুমিনের চরিত্র
বর্তমান যান্ত্রিক যুগে আমরা অনেকেই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছি। কিন্তু ইসলাম আমাদের শেখায় ভ্রাতৃত্ববোধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, “আল্লাহ তায়ালা ততক্ষণ পর্যন্ত বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে।” (সহিহ মুসলিম)
একজন ক্ষুধার্তকে অন্ন দেওয়া, তৃষ্ণার্তকে পানি পান করানো, অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করা, কিংবা পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া—এ সবই ইবাদতের অংশ। এমনকি কারো সাথে হাসিমুখে কথা বলাও সদকাহ বা দান হিসেবে গণ্য হয়।
মানুষের উপকারেই শ্রেষ্ঠত্ব
সমাজে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়, যার মাধ্যমে মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, তাহাজ্জুদ বা নফল ইবাদত যেমন আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম, তেমনি বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম চাবিকাঠি।
আমাদের করণীয়
অনলাইন নিউজ ফিড বা সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আমরা অনেক নেতিবাচক খবরে ভারাক্রান্ত থাকি। তবে আমাদের আশেপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা নীরবে মানবতার সেবা করে যাচ্ছেন। তাঁদের অনুসরণ করে আমাদেরও উচিত:
- প্রতিবেশীর খোঁজখবর রাখা।
- সাধ্যমতো অভাবী মানুষকে সাহায্য করা।
- সমাজের এতিম ও অসহায় শিশুদের দায়িত্ব নেওয়া।
- পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হওয়া।
উপসংহার:
ধর্ম পালন কেবল মসজিদের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কর্মক্ষেত্রে সততা, রাস্তায় শৃঙ্খলা এবং মানুষের প্রতি সহানুভূতি—এ সবই ইসলামের সৌন্দর্য। আসুন, আমরা নামাজ-রোজার পাশাপাশি সৃষ্টির সেবার মাধ্যমে আল্লাহর প্রকৃত বান্দা হওয়ার চেষ্টা করি।