খাদ্যে ভেজাল: আমাদের বাঁচার উপায় কী?

- নাঈম ইসলাম, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি
বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য অপরিহার্য, কিন্তু সেই খাদ্যই যখন মরণব্যাধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন তাকে বিড়ম্বনা ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়?
২০২৬ সালে প্রযুক্তির চরম শিখরে পৌঁছেও আমাদের এক বড় দুশ্চিন্তার নাম ‘খাদ্যে ভেজাল’। শাকসবজি থেকে শুরু করে মাছ-মাংস—সবখানেই বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি জনস্বাস্থ্যকে এক চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। আজ আমরা এমন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে প্রতিটি দানা শস্যেও মিশে আছে আশঙ্কার বীজ।
ভেজাল ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি:
অসাধু ব্যবসায়ীদের অতি-মুনাফার লোভ আমাদের খাবার টেবিলকে অনিরাপদ করে তুলেছে। ফল পাকানো থেকে শুরু করে পচন রোধে ফরমালিন ও ক্যালসিয়াম কার্বাইডের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার এখন ওপেন সিক্রেট। এর ফলে দেশে ক্যানসার, কিডনি রোগ এবং শিশুদের লিভারের সমস্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।
২০২৬ সালে এসেও যখন দেখি বাজার থেকে কেনা আপেল বা মাছে সতেজতার আড়ালে বিষ মিশে আছে, তখন নাগরিক হিসেবে আমরা অসহায় বোধ করি। এই নীরব ঘাতক আমাদের তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
খাদ্যে ভেজাল রোধে শুধু আইন করলেই হবে না, প্রয়োজন তার কঠোর ও নিয়মিত প্রয়োগ। এই সংকট থেকে বাঁচার জন্য পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি:
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুধু উৎসব বা রমজান-কেন্দ্রিক না হয়ে বছরজুড়ে পরিচালনা করতে হবে।
অসাধু সিন্ডিকেটের শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে।
সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। অতি উজ্জ্বল বা নিখুঁত দেখতে ফল ও সবজি কেনার চেয়ে মৌসুমি ও প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত খাদ্যের দিকে নজর দিতে হবে। চেনার উপায়গুলো জানতে হবে।
রাসায়নিকমুক্ত চাষাবাদে কৃষকদের ভর্তুকি, প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করে উৎসাহিত করতে হবে। নিরাপদ খাদ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে।
খাদ্যে ভেজাল মেশানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে যেন ভবিষ্যতে কেউ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায়।
আমরা হয়তো স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, কিন্তু অসুস্থ প্রজন্ম নিয়ে সেই স্বপ্ন সফল হওয়া সম্ভব নয়। নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা কোনো করুণা নয়, এটি আমাদের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার। সরকার, প্রশাসন এবং সাধারণ জনগণ—সবাই মিলে আজই রুখে না দাঁড়ালে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা এক পঙ্গু ও রুগ্ন সমাজ উপহার দেব।
সময় এসেছে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি,
একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ জাতি গড়ি।



