চীফ রিপোর্টার আজিজুল হক  বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছাত্র সংগঠনগুলোর ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে “ছাত্রলীগের হেলমেট বাহিনী” নামে পরিচিত একটি কাঠামো ঘিরে রাজনৈতিক সহিংসতা, পরিচয় ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এই প্রেক্ষাপটে সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল এক আলোচনায় মন্তব্য করেন—ছাত্রলীগের নামে পরিচিত হেলমেট বাহিনীর একটি বড় অংশের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং এর সঙ্গে জামাত–শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। মাসুদ কামালের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এটি কোনো চূড়ান্ত রায় বা আদালতের সিদ্ধান্ত নয়; বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বাস্তবতা, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও নানা ঘটনার পর্যালোচনা থেকে উঠে আসা একটি বিশ্লেষণধর্মী পর্যবেক্ষণ। তাঁর মতে, সমস্যার মূল জায়গা হলো—সহিংসতা যখন রাজনৈতিক সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে পরিণত হয়, তখন প্রকৃত রাজনৈতিক পরিচয় আড়ালে চলে যায়। ছাত্রলীগ বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠনগুলোর একটি। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক কর্মসূচি, রাজপথের আন্দোলন এবং দলীয় কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা রক্ষার নামে হেলমেট পরিহিত কর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। এই বাস্তবতা থেকেই ‘হেলমেট বাহিনী’ শব্দটি রাজনৈতিক আলোচনায় জায়গা করে নেয়। সমালোচকদের দাবি, এই কাঠামো অনেক সময় ছাত্র স্বার্থের বাইরে গিয়ে ক্ষমতার বলয় রক্ষার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। মাসুদ কামালের বক্তব্যের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশটি হলো—হেলমেট বাহিনীর বড় একটি অংশের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে তাঁর প্রশ্ন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতায় জড়িত অনেক মুখ আদর্শিকভাবে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর বিশ্লেষণে উঠে আসে, কখনো কখনো ভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর লোকজন সুযোগ বুঝে প্রভাবশালী সংগঠনের ছায়ায় ঢুকে পড়ে, যার ফলে দায় এসে পড়ে মূল সংগঠনের ওপর। এ বিষয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি অভিযোগ ও বিশ্লেষণের বিষয়, প্রমাণের বিষয় নয়—এবং এসব দাবির সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। মাসুদ কামালের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—সহিংসতার দায় কে নেবে? যদি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত হয়, তবে সংগঠনকেই দায় এড়ানোর বদলে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহিংসতার জায়গা কমাতে না পারলে, ছাত্র রাজনীতির ভবিষ্যৎ আরও সংকটাপন্ন হবে। ‘হেলমেট বাহিনী’ বিতর্ক মূলত কোনো একক সংগঠন বা গোষ্ঠীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর বিষয় নয়। এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে সহিংসতা, অনুপ্রবেশ, পরিচয় গোপন করা এবং দায় এড়িয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি নিয়ে একটি গভীর প্রশ্ন। মাসুদ কামালের বক্তব্য সেই প্রশ্নগুলোই নতুন করে সামনে এনেছে। সমাধান আসবে তখনই, যখন রাজনৈতিক দলগুলো আত্মসমালোচনার সাহস দেখাবে এবং ছাত্র রাজনীতিকে আবার শিক্ষা, যুক্তি ও নেতৃত্ব তৈরির পথে ফিরিয়ে আনবে।