চীফ রিপোর্টার আজিজুল হক  ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বাঁচিয়ে রাখতে আসন্ন গণভোটে জুলাই সনদের পক্ষে “হ্যাঁ” ভোটকে জয়যুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই—এমন মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই। রোববার  এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ জাতির সামনে যে নতুন রাষ্ট্রগঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তার পুরো কৃতিত্বই ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের। ওই সময়ে তরুণ শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ রাজপথে জীবন বাজি রেখে আন্দোলনে অংশ না নিলে দেশ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি পেত না। পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও এখনও ফ্যাসিবাদী আইন, রীতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি পুরোপুরি উৎখাত হয়নি। রাষ্ট্র ও রাজনীতি থেকে ফ্যাসিবাদের স্থায়ী বিলোপ নিশ্চিত করতেই ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে জুলাই সনদের পক্ষে জনগণের সুস্পষ্ট রায় প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতেই হবে।” এ লক্ষ্যে দেশের সকল রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সরকারকে জুলাই সনদের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই উল্লেখ করেন, চব্বিশের জুলাইয়ে জনগণ কেবল একটি নির্বাচন আদায়ের জন্য রাজপথে নামেনি; বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও সুশাসনের স্বপ্ন সামনে রেখে আন্দোলন করেছে। জুলাই সনদে সেই আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি প্রতিফলিত না হলেও বড় অংশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুরু থেকেই গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন আলাদা করে আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু সেই দাবি উপেক্ষা করায় আজ জুলাই সনদের আলোচনা রাজনীতির কেন্দ্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট আয়োজনের ফলে গণভোটের গুরুত্ব আড়ালে পড়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পীর সাহেব চরমোনাই সতর্ক করে বলেন, জুলাই সনদের পক্ষে যদি ব্যাপক জনসমর্থন দৃশ্যমান না হয়, তবে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে শুরু করে নির্বাচন প্রক্রিয়ার বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তাই জুলাই সনদের আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে জারি রাখা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জননিরাপত্তা নিয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সরকারকে এ বিষয়ে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।