ঠাকুরগাঁও -১ আসনে রিকশায় চড়ে ফখরুল ও ভ্যানে চড়ে দেলাওয়ারের মনোনয়ন দাখিল

মো: আনোয়ার হোসেন, ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আসন্ন নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে ভিন্ন এক আমেজে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে ও বিকেলে দুই হেভিওয়েট প্রার্থী সম্পূর্ণ সাদামাটাভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় কার্যালয় থেকে রিকশায় চড়ে এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন ভ্যানে চড়ে এসে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাদের মনোনয়ন পত্র জমা দেন।
বিভেদহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ডাক মির্জা ফখরুলের দুপুরে মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে দলীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই। গত ১৫ বছরে দেশে বিভাজনের রাজনীতি করা হয়েছে, আমরা সেই পথ থেকে ফিরে আসতে চাই। তিনি আরও বলেন, ‘২৪-এর আন্দোলনে অনেক তাজা প্রাণ ঝরেছে একটি সুন্দর ও দুর্নীতিমুক্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য। এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা এমন এক উদারপন্থী দেশ গড়ব যেখানে নারী-পুরুষ এবং সকল ধর্মের মানুষের সমান মর্যাদা থাকবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতে বিকেলে ভ্যানে চড়ে এসে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। দাখিল শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এই নির্বাচন মূলত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট। আমরা আশা করি দেশের মানুষ একটি সুখী ও নিরাপদ ঠাকুরগাঁও গড়তে জামায়াতের পক্ষেই রায় দেবে।
তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, এখানে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, আধুনিক মেডিকেল কলেজ এবং ইপিজেড স্থাপন করে বেকারত্ব দূর করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আমরা দুর্নীতি করব না এবং কাউকে করতেও দেব না। রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের প্রতিটি পয়সার হিসাব জনগণের কাছে দেওয়া হবে। নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রত্যাশা দুই প্রার্থীই তাদের বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার ওপর জোর দিয়েছেন। মির্জা ফখরুল যখন বিভেদহীন সমাজের কথা বলছেন, তখন দেলাওয়ার হোসেনও ৫৪ বছরের ‘নষ্ট রাজনীতি’র অবসান ঘটিয়ে সাম্য ও সৌহার্দ্যপূর্ণ নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় বিএনপির জেলা সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী এবং জামায়াতের জেলা আমীর অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীরসহ উভয় দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।



