নাঈম ইসলাম ,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেমন আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, ঠিক তেমনি এক শ্রেণির চতুর প্রতারকের জন্য খুলে দিয়েছে অপরাধের নতুন দুয়ার। সম্প্রতি আমার ব্যক্তিগত ফেসবুক মেসেঞ্জারে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা আমাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, কতটা সুকৌশলে আমাদের আবেগ আর সরলতাকে পুঁজি করে ডিজিটাল ফাঁদ পাতা হচ্ছে।
ফেসবুক মেসেঞ্জারে হুট করেই "রিনা চাকমা" নামে একটি অপরিচিত আইডি থেকে বার্তা আসে। কুশলাদি বিনিময়ের আগেই সরাসরি আবদার— "টাকা পাঠিয়ে দাও"। কেন টাকা লাগবে জানতে চাইলে উত্তর আসে, "এমবি কিনবো তাই"। লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, যার ফোনে ইন্টারনেট ডাটা বা এমবি নেই বলে দাবি করা হচ্ছে, সে কিন্তু নিরবচ্ছিন্নভাবে অনলাইনে থেকেই আমার সাথে চ্যাট করে যাচ্ছিল। এমনকি আমি একাধিকবার কল দিলেও সে তা রিসিভ করেনি, যা এ ধরনের প্রতারণার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
কথোপকথনের এক পর্যায়ে প্রথমে ১০০০ টাকা দাবি করা হয়। আমি যখন ৫০০ টাকা দেওয়ার কথা বলি, সে সাথে সাথে রাজি হয়ে যায় এবং জোর দিয়ে বলে, "এখন লাগবে আমার"। এই তাড়াহুড়ো মূলত মানুষকে চিন্তা করার বা সত্যতা যাচাই করার সময় না দেওয়ার একটি মনস্তাত্ত্বিক কৌশল। টাকা পাঠানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর প্রদান করা হয়। যখন আমি তার মিথ্যার প্রমাণ সামনে আনলাম যে— এমবি ছাড়া সে চ্যাট করছে কীভাবে, তখন সে কোনো সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে আমি প্রোফাইলটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি। দেখা যায়, প্রোফাইলটি অত্যন্ত নতুন এবং এর তথ্যাদি আজকেই আপডেট করা হয়েছে। এমনকি প্রোফাইল ও কভার ফটোও মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে আপলোড করা হয়েছে, যা সাধারণত ফেক আইডির বৈশিষ্ট্য। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিই যে, অপরিচিত কাউকে এভাবে টাকা পাঠানো বা ব্যক্তিগত পরিচয় দেওয়া সম্ভব নয়।
এই ঘটনার মাধ্যমে আমি পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বার্তা দিতে চাই:
অপরিচিত কেউ টাকা চাইলে আবেগপ্রবণ না হয়ে আগে তার পরিচয়ের সত্যতা যাচাই করুন। এমবি নেই বলে অনলাইনে চ্যাট করা স্পষ্টত একটি জালিয়াতি।
যদি কেউ টাকা চায় কিন্তু ভয়েস বা ভিডিও কলে কথা বলতে রাজি না হয়, তবে নিশ্চিত থাকুন সেটি একটি প্রতারক চক্র।
নিজের পেশাগত পরিচয়পত্র বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া হুট করে কাউকে দেবেন না। প্রতারক চক্র আপনার এই পরিচয় ব্যবহার করে অন্য কাউকে ফাঁসাতে পারে।
কোনো সন্দেহজনক নম্বরে হুট করে টাকা পাঠাবেন না।
সচেতনতাই হচ্ছে ডিজিটাল এই যুগে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। সাইবার অপরাধীরা আমাদের করুণা আর বিশ্বাসকে পুঁজি করে। তাই চটকদার প্রোফাইল বা কান্নাকাটির গল্পে না ভুলে যুক্তি দিয়ে বিচার করা প্রয়োজন। আপনার একটি ছোট সচেতন সিদ্ধান্ত আপনাকে বড় কোনো আর্থিক বা মানসিক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারে।