বিশেষ প্রতিবেদন, ২০২৬ সালের আধুনিকতায় দাঁড়িয়ে আমরা যখন স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, তখন নীলফামারীর ডিমলায় দাঁড়িয়ে আমার মনে হয়—সময় কি এখানে থমকে গেছে? গত শুক্রবার নীলফামারী শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথে যে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলাম, তা কেবল আমার একার ভ্রমণকষ্ট নয়, বরং এই অঞ্চলের হাজারো মানুষের প্রতিদিনের নীরব যন্ত্রণার এক জলজ্যান্ত দলিল। রাত তখন সাড়ে আটটা। চারদিকে পৌষের হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশার মায়াবী কিন্তু নিথর স্তব্ধতা। বাস থেকে নামার পর কোনো যানবাহনের দেখা নেই। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এক সিএনজি চালক যে ভাড়া চাইলেন, তা শুনে মনে হলো—মানুষের অসহায়ত্বই যেন এখানে ব্যবসার মূল পুঁজি। অবশেষে অটোতে চেপে যখন ডাঙ্গার হাট - বাজারে নামলাম, তখন ঘড়িতে রাত সোয়া নয়টা। জনশূন্য বাজারে দাঁড়িয়ে আমি যে অন্ধকারের মুখোমুখি হলাম, তা কেবল আলোর অভাব নয়, তা যেন আমাদের প্রশাসনিক অবহেলারই প্রতিফলন। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও ডাঙ্গারহাট বাজার এবং তৎসংলগ্ন রাস্তার মোড়ে ল্যাম্পপোস্ট নেই। ঘুটঘুটে অন্ধকারে জরাজীর্ণ আর খানাখন্দে ভরা রাস্তা দিয়ে যখন হাঁটতে শুরু করলাম, পায়ের নিচে প্রতিটি হোঁচট আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল—আমরা কতটা পিছিয়ে আছি। মুরুব্বিদের কাছে শুনেছি এই রাস্তা অনেক পুরনো, অথচ দীর্ঘ এক যুগেও এখানে সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি। নীলফামারীর বিভিন্ন জায়গায় উন্নয়নের জয়গান শোনা গেলেও ডিমলার এই নিভৃত পল্লীগুলো কেন আজও উপেক্ষিত থাকবে সমস্যা কেবল যাতায়াত বা অন্ধকারে সীমাবদ্ধ নয়; আমাদের এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থাও আজ চরম সংকটে। এখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেই মানসম্মত শিক্ষক, নেই আধুনিক কোনো শিক্ষা উপকরণ। আমি সোনার তরী মডেল একাডেমির প্রাক্তণ শিক্ষার্থী। এবং বর্তমানে কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যায়নরত । আমার প্রশ্ন—সুযোগ-সুবিধার এই চরম বৈষম্য নিয়ে আমরা কি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারব? রাত ১২টার দিকে যখন গন্তব্যে পৌঁছালাম, তখন মায়ের সেই আবেগঘন আক্ষেপ— "তোর খুব কষ্ট হয়ে গেল রে বাবা!"—আমাকে গভীরভাবে বিদ্ধ করল। এই কষ্ট কেবল আমার এক রাতের ভ্রমণের নয়, এই কষ্ট আমাদের এলাকার সার্বিক অনগ্রসরতার। আমরা আর অন্ধকারে হাঁটতে চাই না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ, ডাঙ্গারহাট বাজারসহ ডিমলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাস্তাঘাট সংস্কার এবং পর্যাপ্ত সড়কবাতি স্থাপন করে আমাদের এই জনপদকে অন্ধকারমুক্ত করুন। উন্নয়নের আলো কেবল শহরে নয়, প্রতিটি গ্রামে পৌঁছানোই হোক আমাদের লক্ষ্য। লেখক:-নাঈম ইসলাম প্রাক্তণ শিক্ষার্থী, সোনার তরী মডেল একাডেমি। শিক্ষার্থী, কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নীলফামারী।