ঢাকা-১ আসনে বিজয়ের পর নজিরবিহীন সৌজন্যতা প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন খন্দকার আবু আশফাক

শহীদুল ইসলাম শরীফ, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয় ঘোষিত হওয়ার পর এক অনন্য রাজনৈতিক সৌজন্যতা দেখিয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক। গতকাল রাতে ফলাফল ঘোষণার পর তিনি সরাসরি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও ১১ দলীয় জোটের শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের সাথে সাক্ষাৎ করতে তার বাসভবনে যান।
বেসরকারি ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে খন্দকার আবু আশফাক বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেন। বিজয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেই তিনি কোনো প্রকার বিজয় মিছিল বা উন্মাদনায় না মেতে প্রথমে ছুটে যান দাঁড়িয়েপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুলের কাছে। সেখানে দুই নেতা একে অপরকে আলিঙ্গন করেন এবং কুশল বিনিময় করেন। তাদের এই হাস্যোজ্জ্বল মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
খন্দকার আবু আশফাক বলেন "নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মাত্র। আমরা একই এলাকার সন্তান। এলাকার উন্নয়নে আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব। ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম একজন যোগ্য ব্যক্তি, তার পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে আমি আগামীতে দোহার-নবাবগঞ্জকে সাজাতে চাই।"
অন্যদিকে, ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামও অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে বিজয়ী প্রার্থীকে স্বাগত জানান। তিনি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে খন্দকার আবু আশফাককে অভিনন্দন জানান এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সাধারণ ভোটাররা বলছেন, দোহার-নবাবগঞ্জের রাজনীতিতে এটি একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন। নির্বাচনের রেশ ধরে অনেক সময় প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখা গেলেও, দুই শীর্ষ নেতার এই সৌজন্য সাক্ষাৎ তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। এর ফলে নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এলাকায় কোনো ধরণের সংঘাত বা অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা। ঢাকা ১ আসনে খন্দকার আবু আশফাক (বিএনপি)৬৩,৪৯৩ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারী ভাবে জয়লাভ করেন। উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ঢাকা-১ আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িয়েপাল্লা প্রতীকের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস থাকলেও শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে জয়ী হন খন্দকার আবু আশফাক।



