তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে তামাক চাষের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কৃষকদের মুক্ত করতে এবং নিরাপদ সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 'যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প'-এর আওতায় বিষমুক্ত শিম চাষের ওপর আয়োজিত এক মাঠ দিবসে কৃষকদের মাটির উর্বরতা রক্ষা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকের বিকল্প হিসেবে লাভজনক শিম চাষের আহ্বান জানানো হয়। গত বৃহস্পতিবার  বিকেলে দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে উপজেলার সাদিপুর এলাকায় এই মাঠ দিবস অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই এলাকায় শিম চাষের প্রদর্শনী ও কৃষকদের সচেতনতামূলক এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দৌলতপুর উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার আলী আহম্মেদ জানান, তামাক মাটির পুষ্টি শুষে নিয়ে জমিকে নিঃস্বর করে দেয়, যেখানে শিম চাষ করলে মাটিতে নাইট্রোজেন যুক্ত হয়ে উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। তিনি কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আধুনিক বালাই ব্যবস্থাপনা বা আইপিএম পদ্ধতি ব্যবহার করে বিষমুক্ত শিম চাষ করলে তা তামাকের চেয়েও বেশি মুনাফা দেবে এবং পরিবারের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাবে। কৃষি অফিস থেকে উন্নত জাতের বীজ ও প্রযুক্তি দিয়ে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। দীর্ঘকাল ধরে দৌলতপুর অঞ্চলের কৃষকরা অধিক মুনাফার আশায় তামাক চাষের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। তামাক চাষে উচ্চমাত্রার বিষ ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির স্বাভাবিক জীবনীশক্তি নষ্ট হচ্ছিল এবং পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে পড়ছিল। এই প্রেক্ষাপটে কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় তামাকের রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করতেই কৃষি বিভাগ এই টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে। মাঠ দিবসের এই আয়োজনে শিম চাষে লাভবান হওয়া কৃষক ও কৃষাণীদের অভিজ্ঞতা শুনে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং প্রদর্শনী প্রাপ্ত কৃষাণী পারভীন আক্তার তার সফলতার গল্প শুনিয়ে উপস্থিত প্রায় দুই শতাধিক কৃষক-কৃষাণীকে তামাক বর্জন করে সবজি চাষে অনুপ্রাণিত করেন।