জাফর ইকবাল সাধারণ সম্পাদক,   সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম বিভাগ   বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে দাঁড়িয়েছে—এটি নিঃসন্দেহে জাতির জন্য গর্বের বিষয়। কিন্তু এ অগ্রযাত্রা থমকে দাঁড়ায় যখন ‘দুর্নীতি’ নামের বিষাক্ত ছায়া আমাদের প্রশাসন, সমাজ, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে গ্রাস করে।  দুর্নীতি শুধু অর্থলোভ নয়,এটি একটি মানসিকতা**, একটি চক্র, যা সময়ের পর সময় শক্তিশালী হয়েছে ক্ষমতা, প্রভাব, রাজনীতি ও অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে। দুর্নীতি মানে শুধু ঘুষ নয়  ক্ষমতার অপব্যবহার   স্বজনপ্রীতি  বেআইনি সুবিধা গ্রহণ  সরকারি সম্পদের অপচয়  ঘুষ বিনিময়  কমিশন ব্যবসা  এসবের সমন্বয়েই তৈরি হয় দুর্নীতির ভয়ঙ্কর জাল। দুর্নীতি বাংলাদেশের জন্য। কেন সবচেয়ে বড় বাধা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়   সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পায় না  মেধা নয়, পরিচয় মূল্য পায়  বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়  রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হয়   সমাজে অবিশ্বাস ও অব্যবস্থা তৈরি হয়   এক কথায় দুর্নীতি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ভিতর থেকে ভেঙে ফেলে দর্নীতি  একটি কঠিন ও সংগঠিত চক্র-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইন থাকলেও শাস্তির ভয় না থাকলে আইন বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থেকে যায়। দুর্নীতিবাজরা একে অন্যকে রক্ষা করে, দল-মত নির্বিশেষে ক্ষমতার ছাতা তৈরি করে—এ কারণেই দুর্নীতি নির্মূল করা কঠিন। কীভাবে ভাঙবে এই চক্র কঠোর ও নিরপেক্ষ আইনের প্রয়োগ  প্রশাসনিক সংস্কার   নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি  গণমাধ্যম ও সিভিল সোসাইটির ভূমিকা   নৈতিক শিক্ষা এবং সামাজিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধার  সবচেয়ে বড় কথ সমাজকে দুর্নীতিবাজদের বর্জন করতে হবে। তাদের সম্মান নয়, ঘৃণা পেতে হবে।   -দুর্নীতিবাজকে ‘নায়ক’ নয়—‘অপরাধী’ হিসেবে দেখতে হবে আজ আমাদের সমাজে একটা ভয়ঙ্কর প্রবণতা দেখা গেছে দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনকারীকে অনেকেই ‘সফল মানুষ’ হিসেবে দেখছে।  এ মানসিকতা না বদলালে কোনো আইন, কোনো আন্দোলন দুর্নীতি বন্ধ করতে পারবে না। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, সুশাসন এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রথম শর্ত দুর্নীতি নির্মূল।সেজন্য আজই সময় এসেছে সারা দেশে দুর্নীতিবিরোধী- একতাবদ্ধ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার। দুর্নীতি বন্ধ হলে। সুশাসন নিশ্চিত হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে । রাষ্ট্র উন্নত ও মানবিক হবে। এমন বাংলাদেশই আমাদের স্বপ্ন। ━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━